সিন্ধু জলচুক্তি থেকে মাসুদ আজহার, রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের ‘ভণ্ডামি’র মুখোশ খুলল ভারত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 202612:55 pm
নয়াদিল্লি: সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা ফের বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু করে দিল ভারত। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইসলামাবাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারের কড়া সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তথ্য বিকৃত করা পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস।
‘অবৈধ’ ট্রাইব্যুনাল ও ভারতের অবস্থান সম্প্রতি পাকিস্তানের কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন দাবি করে, সিন্ধু জলচুক্তি এখনও বহাল রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে তা স্থগিত রাখতে পারে না। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই দাবি খারিজ করে জানান, ওই সালিশি আদালতটি চুক্তির নিয়ম লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গঠিত হয়েছে। শুরু থেকেই ভারত এই সংস্থার বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর কোনও শুনানিতে অংশ নেয়নি। ফলে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর এই আদালতের কোনও একতিয়ার নেই।
পহেলগাঁও হামলা ও চুক্তি স্থগিত পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা—পাকিস্তান সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া সম্পূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফাঁকা বুলি নয়, আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জন করতে হলে পাকিস্তানকে কাজের মাধ্যমে সন্ত্রাস দমনের প্রমাণ দিতে হবে।
মাসুদ আজহারকে নিয়ে পাক ‘নাটক’ অন্যদিকে, কুখ্যাত জঙ্গিনেতা তথা জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে নিয়েও পাকিস্তান সরকারের পদক্ষেপকে সস্তা ‘লোক দেখানো’ বলে তোপ দেগেছে ভারত। সম্প্রতি আজহারের মাথার দাম ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়িয়ে ৭০ লাখ করা এবং সে আফগানিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা—পুরোটাই পাকিস্তানের ভাঁওতা।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ২০০১ সালের সংসদ হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী মাসুদ আজহার কোনও আফগান গুহায় নয়, বরং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহেই সরকারি নিরাপত্তায় দিব্যি রয়েছে। লোক দেখানোর পরিবর্তে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
