ব্যাগ না আনায় ৫ বছরের শিশুকে মেঝেতে আছড়ালেন শিক্ষক! যন্ত্রণায় ভাঙল পা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20268:15 pm
সামান্য স্কুল ব্যাগ না নিয়ে আসার ‘অপরাধে’ ৫ বছরের এক একরত্তি শিশুকে ক্লাসরুমের মেঝেতে সজোরে আছড়ে ফেলার নৃশংস অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অমানবিক এই মারধরের চোটে শিশুটির উরুর হাড় ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার ভগওয়াঁ থানা এলাকার এই হাড়হিম করা ঘটনায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মড়ীখেড়া গ্রামের বাসিন্দা ৫ বছর বয়সী শিশু নীরজ লোদী ‘ওম জ্ঞান মন্দির’ নামের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস চলাকালীন শিশুটি ভুলবশত ব্যাগ না আনায় চটে যান ওই স্কুলের চালক তথা শিক্ষক রবীন্দ্র শুক্লা। অভিযোগ, মেজাজ হারিয়ে তিনি ফুটফুটে শিশুটিকে শূন্যে তুলে সোজা ক্লাসরুমের শক্ত মেঝেতে আছড়ে ফেলেন। এতে শিশুটির পায়ের উরুর অংশের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।
চিকিৎসার দায়িত্ব এড়িয়ে চম্পট শিক্ষকের!
ঘটনার পরেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা শিশুটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সরে পড়েন অভিযুক্ত শিক্ষক। প্রথমে তিনি শিশুর চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিবার যখন শিশুটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচার করে পায়ে রড বসাতে হয়, তখন খরচের অঙ্ক দেখে বেঁকে বসেন শিক্ষক। সম্পূর্ণ টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাধ্য হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হয় শিশুটির পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত রবীন্দ্র শুক্লার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক কড়া ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। জখম শিশুটিকে আরও চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক, তার খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
