বাংলার নয়া ‘হাব’ বিশ্বভারতী! গবেষণা ও প্রসারে বিপুল অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের – এবেলা

বাংলার নয়া ‘হাব’ বিশ্বভারতী! গবেষণা ও প্রসারে বিপুল অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাঙালির জন্য বড় গর্বের খবর! ধ্রুপদী (Classical) বাংলা ভাষার মূল উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণায় কার্যত খুশির হাওয়া বইছে শান্তিনিকেতন জুড়ে। এখন থেকে বাংলা ভাষার প্রসার, চর্চা এবং গবেষণার প্রধান ‘হাব’ বা প্রাণকেন্দ্র হতে চলেছে এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কী কী নতুন সুবিধা পাবে বিশ্বভারতী? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্বভারতীতে বাংলা ভাষার চর্চার জন্য তৈরি হবে বিশেষ হাব। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এর জন্য বিশেষ পদ সৃষ্টি ও বিপুল অর্থ বরাদ্দ করতে পারে।

  • দুর্লভ পুঁথি সংরক্ষণ: বিশ্বভারতীতে থাকা প্রাচীন মূল্যবান পুঁথি, নথি ও দুর্লভ বইপত্র এবার আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ডিজিটাইজ করা হবে।
  • গবেষণা ও কর্মসংস্থান: বাংলা ভাষার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দর্শনের উপর গবেষণায় জোর দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন ভাষার প্রসার ঘটবে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

দেওয়া যাবে রাষ্ট্রপতি স্তরের সম্মান! সবচেয়ে বড় চমক হল, বাংলা ভাষায় যাঁদের বিশেষ অবদান রয়েছে, তাঁদের এবার থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের সম্মান প্রদান করার অধিকারী হল বিশ্বভারতী। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিশ্বভারতীর দেওয়া এই সম্মানটি সরাসরি ‘রাষ্ট্রপতি পুরস্কার’-এর সমতুল্য হতে চলেছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ করবে কেন্দ্র সরকার।

অন্যান্য ধ্রুপদী ভাষার কেন্দ্র কোথায়? ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর বাংলা-সহ পাঁচটি ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছিল কেন্দ্র। বাংলার পাশাপাশি আসামিয়া ভাষার কেন্দ্র হচ্ছে তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়, পালি ভাষার জন্য ওডিশা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাকৃত ভাষার জন্য গুজরাত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মারাঠি ভাষার মূল উৎকর্ষ কেন্দ্র হচ্ছে মহারাষ্ট্রের ডেকান কলেজ।

কী বলছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ? কেন্দ্রের এই ঘোষণায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত শান্তিনিকেতন। বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রধান মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিশ্বভারতীর উপর কেন্দ্র যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এটা আমাদের সকলের কাছে ভীষণ গর্বের ও আনন্দের। তবে আমাদের দায়িত্ব পালন করে এর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে বাংলা ভাষার চর্চা ও গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *