নোট থেকে উধাও ষষ্ঠ জর্জ, কীভাবে ভারতীয় মুদ্রায় প্রবেশ করলেন হাসিমুখের গান্ধীজি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্বাধীনতার সময়েও ভারতীয় মুদ্রায় জ্বলজ্বল করত ব্রিটিশ রাজা ষষ্ঠ জর্জের প্রতিকৃতি। ১৯৪৯ সালে তা বদলে অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক স্থান পেলেও, নোটের নকশায় বন্যপ্রাণী, কৃষিকাজ এবং আর্যভট্ট উপগ্রহের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ছবি ব্যবহৃত হতে থাকে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবর্ষে প্রথমবার তাঁর প্রতিকৃতি সম্বলিত বিশেষ নোট আনা হয় এবং ১৯৮৭ সালে ৫০০ টাকার নোটে তাঁর ছবি রাখা হয়। অবশেষে ১৯৯৬ সালে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ‘মহাত্মা গান্ধী সিরিজ’ চালু করলে ভারতীয় নোটে তাঁর ছবি স্থায়ী আসন লাভ করে।
নোটে ব্যবহৃত গান্ধীজির হাসিমুখের সুপরিচিত ছবিটি আসলে ১৯৪৬ সালে লর্ড পেথিক-লরেন্সের সঙ্গে তোলা একটি মূল ছবির ‘মিরর ইমেজ’। কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বই নয়, ১৯৯০-এর দশকে জাল নোট রোখার উন্নত নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবেও এই নকশা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এপিজে আব্দুল কালাম কিংবা দেবী লক্ষ্মী ও গণেশের ছবি ব্যবহারের প্রস্তাব উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ আরবিআই-এর কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ অনুমোদনেই নির্ধারিত হয় নোটের নকশা, যা আজ অবধি গান্ধীজির ঐতিহ্যই বজায় রেখেছে।
