অভাবকে জয় করে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ‘বিনাপয়সার মাস্টারমশাই’! চন্দ্রকোনায় মেলছে ৩৫ খুদের ‘ইচ্ছেডানা’ – এবেলা

অভাবকে জয় করে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ‘বিনাপয়সার মাস্টারমশাই’! চন্দ্রকোনায় মেলছে ৩৫ খুদের ‘ইচ্ছেডানা’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-১ নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী অধ্যুষিত বনডাঙ্গা গ্রাম। আর্থিক অনটনের কারণে যেখানে শিশুদের আলাদা করে প্রাইভেট টিউশন দেওয়ার সামর্থ্য অধিকাংশ পরিবারেরই নেই, সেখানেই আশার আলো জ্বালিয়েছেন গ্রামেরই এক শিক্ষিত যুবক বিপিন হেমব্রম। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি নিঃস্বার্থভাবে এলাকার খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং জুগিয়ে চলেছেন স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা।

স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘বিনা-পয়সার মাস্টারমশাই’ নামে। তাঁর পরিচালিত ‘বিপিনদার পাঠশালা’-য় বর্তমানে পড়াশোনা করছে প্রায় ৩৫ জন খুদে পড়ুয়া। আর পাঁচটা টিউশন ব্যাচের মতো এখানে শিক্ষার কেনাবেচা হয় না; নেই নির্দিষ্ট কোনো মাসিক ফি। অভিভাবকরা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী কেউ ২০ টাকা, কেউ ৩০ টাকা, আবার কেউ ১০০-১৫০ টাকা দেন। সেই সামান্য সহযোগিতাতেই কোনোমতে সংসার চালিয়ে গ্রামের শিশুদের নিখরচায় শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিপিনবাবু।

কেবল বইয়ের পাঠ দেওয়াই নয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছেন বিপিন। তাঁর পাঠশালায় পড়ে পড়াশোনা চালিয়ে ইতিমধ্যেই এক যুবক সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সেই সাফল্য দেখে গ্রামের আরও বহু খুদে পড়ুয়ার চোখে আজ স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই শিশুদের মুখে বাড়তি হাসি ফোটাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক ও বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী। উপহার পেয়ে বেজায় খুশি খুদেরা।

বিপিন হেমব্রমের এই মানবীয় উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষক ভবানীপ্রসাদ দাসসহ আরও কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী। গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও, পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ সাত বছর ধরে অবিচল নিষ্ঠায় এই অবৈতনিক পাঠশালা চালিয়ে যাচ্ছেন বিপিন। ৩৫ জোড়া চোখে বড় হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে এভাবেই ভালোবাসায় আলো ছড়িয়ে চলেছে ‘বিপিনদার পাঠশালা’।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *