পূর্ব বর্ধমানে পরপর ৩ নাবালিকা প্রসূতির হদিস, পকসো ও বাল্যবিবাহ ধারায় গ্রেফতার ৩ স্বামী – এবেলা

পূর্ব বর্ধমানে পরপর ৩ নাবালিকা প্রসূতির হদিস, পকসো ও বাল্যবিবাহ ধারায় গ্রেফতার ৩ স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্ধমান ও কালনা: নাবালিকা বিবাহ এবং কম বয়সে গর্ভধারণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই পূর্ব বর্ধমান জেলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। পরপর তিনটি পৃথক ঘটনায় তিন নাবালিকা প্রসূতির স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ধরা পড়ল সত্য: গত রবিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণী সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পরই চিকিৎসকরা জানতে পারেন তিনি প্রকৃতপক্ষে নাবালিকা। জানা গেছে, প্রায় ১৪ মাস আগে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকার সঙ্গে শক্তিগড় থানা এলাকার এক যুবকের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার কথা জানতে পেরে বর্ধমান থানা দ্রুত একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করে মামলাটি শক্তিগড় থানায় স্থানান্তরিত করে। এরপর সোমবার রাতে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং মঙ্গলবার তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।

একই ধরণের ঘটনা ঘটে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমেও। সেখানে এক নাবালিকা সন্তান প্রসব করার পর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী সম্রাট হাজরাকে মন্তেশ্বরের বাঁয়ুই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে এবং মঙ্গলবার কালনা মহকুমা আদালতে পাঠায়।

চিকিৎসা করাতে গিয়ে ফাঁদে স্বামী: অন্যদিকে, মন্তেশ্বর এলাকার এক নাবালিকা বর্ধমানে চিকিৎসা করাতে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় সে অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হতেই মন্তেশ্বর থানার পুলিশ তদন্তে নামে। ওই নাবালিকার স্বামী, ভাতার এলাকার বাসিন্দা রাহুল ধারাকে গ্রেফতার করে সোমবার কালনা মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়।

উদ্বেগজনক রিপোর্ট ও প্রশাসনিক তৎপরতা: সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, বাল্যবিবাহ ও কম বয়সে সন্তান প্রসবের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। এই উদ্বেগজনক রিপোর্ট সামনে আসার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিভিন্ন মহল থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়। এরপরেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশি স্তরে নজরদারি এবং আইনি তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *