চশমার দোকানেই চলছে চোখের চিকিৎসা? হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু বড় পদক্ষেপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: চশমা বিক্রির দোকানে শুধু আই-পাওয়ার মাপার কথা থাকলেও, সেখানে অননুমোদিতভাবে চোখের চিকিৎসাও চলছে—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার রাজ্যজুড়ে বড় পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চশমার দোকান বা আই ক্লিনিকগুলোতে পেশাগত সীমারেখা টপকে অবৈধভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? নদিয়ার শান্তিপুরের একটি আই ক্লিনিককে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা। অভিযোগ, শান্তিপুর কলেজের পাশে অবস্থিত ‘নেত্রদীপ আই ক্লিনিক’-এ চোখে আঘাত পেয়ে চিকিৎসা করাতে যান সুজিত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। ওই ক্লিনিকের মালিক অরূপ রায় উপযুক্ত যোগ্যতা বা অপটোমেট্রিস্টের ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ড্রপ ও নানা ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। ভুল ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীর চোখের অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওই প্রেসক্রিপশন দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেন। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের কড়া অবস্থান ও রাজ্য সরকারের রিপোর্ট প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি?”
রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালত নির্দেশ দেওয়ার পর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হুগলিতে এমন একটি বেআইনি দোকান চিহ্নিত করে মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের পাশাপাশি দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার আশ্বাস ডিভিশন বেঞ্চ তাদের নির্দেশে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছে:
- চশমার দোকানের মালিক ও অপটোমেট্রিস্টরা যদি নিয়ম মেনে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা বা প্রাথমিক অনুমোদিত পরিষেবা দেন, তবে তাঁদের অযথা হয়রানি করা যাবে না।
- কিন্তু অনুমোদনের সীমা ছাড়িয়ে কেউ যদি ডাক্তার না হয়েও রোগ নির্ণয় বা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার মতো কাজ করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ অভিযুক্ত ওই আই ক্লিনিকের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্লিনিকে চিকিৎসা পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখবেন এবং দোকানে সেই সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হবে। তবে সাধারণ চশমা বিক্রির ব্যবসা চালু থাকবে। আগামী ১১ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যার আগে রাজ্যকে পুরো তথ্যাবলি সহ বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
