স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড নিয়ে নবান্নের কড়া নির্দেশ! ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জমা না দিলে কঠোর পদক্ষেপের হুঙ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবার এই স্বাস্থ্য কার্ডগুলি ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কী নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন? সম্প্রতি প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের কাছে থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলি জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যে দফতর বা বিভাগে কর্মীরা কর্মরত, সেই নির্দিষ্ট বিভাগেই তাঁদের কার্ড জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, নিয়ম মেনে একটি ঘোষণাপত্র এবং কার্ড জমা দেওয়ার রসিদও সংগ্রহ করতে হবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জমা পড়া ঘোষণাপত্র ও নথিপত্রগুলি যেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে যারা কার্ড জমা দিতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? প্রশাসনের নজরে এসেছে যে, কিছু সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী একদিকে রাজ্য সরকারের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর (West Bengal Health Scheme) সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডও নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। এই দ্বৈত সুবিধা বা ‘ডবল বেনিফিট’ নেওয়ার প্রবণতা সম্পূর্ণভাবে রুখতেই বাধ্যতামূলকভাবে এই কার্ডগুলি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দুটির সংক্ষিপ্ত পরিচয়: উল্লেখ্য, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকে। এছাড়া ২০২৪ সালে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও এর পরিধি প্রসারিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও মিলছে চিকিৎসার সুবিধা। তবে জোড়া স্বাস্থ্যবিমার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে নবান্নের এই নতুন পদক্ষেপে রাজ্য প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
