অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকায় বাজিমাত! রাজ্যের মহিলা পরিচালিত দুর্গা পুজোয় বড় লাফ বাজেটে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়মিত ৩০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করছে সরকার। আর সেই ভাতার টাকাতেই এবার মা দুর্গার আরাধনায় মেতে উঠেছেন বাংলার মায়েরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এমন উৎসাহব্যঞ্জক ছবি সামনে আসছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাতেই এবার ধূপারের মহিলা পরিচালিত পুজোও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত হচ্ছে।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ধূপার মহিলা পরিচালিত পুজোর বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বাড়ার কারণেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে পুজোর সরঞ্জাম কেনা, প্যান্ডেল তৈরি কিংবা মহাভোগের আয়োজন—সবটাই নিজেদের হাতে করছেন মহিলারা। সাধারণ চাঁদার পাশাপাশি নিজেদের অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার জমানো টাকা থেকেও বড় অংক পুজোর ফান্ডে দিচ্ছেন তারা।
উদ্যোক্তাদের কথায়, আগে মূলত সরকারি প্রকল্পের অন্যান্য ভাতার টাকা থেকেই পুজোর জোগাড় করা হতো। বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পুজোর বাজেটও অনেক বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মহিলা মিলে সরকারি ভাতার টাকায় এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে যেমন ভাতার পরিমাণ বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সদস্য সংখ্যাও। সব মিলিয়ে তাদের এবারের পুজো অত্যন্ত আনন্দের মধ্য দিয়ে কাটবে।
শুধু ধূপার নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিয়েই বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন সংলগ্ন মিনাখাঁর চাপালি এবং হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়ার মহিলারাও দুর্গাপূজার অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছেন। এই দুই গ্রামের সাধারণ মহিলারা নিজেদের এক মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা হাসিমুখে তুলে দিয়েছেন পুজোর তহবিলে।
ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে সরকার। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই রাজ্যের দেড় কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। সরকারি সেই সাহায্যকে পুঁজি করে মা দুর্গার আরাধনার এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়ে গোটা রাজ্যে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন বাংলার নারীরা।
