দিল্লিতে আন্দোলন মানেই লাখ টাকার ধাক্কা! নতুন পুলিশি ফরমানে কপালে ভাঁজ বিরোধীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও কঠোর নিয়ম জারি করল দিল্লি পুলিশ। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তর কিংবা দিল্লির যেকোনো সাধারণ রাস্তায় আর যখন-তখন ইচ্ছেমতো জমায়েত বা বিক্ষোভ দেখানো যাবে না।
বিক্ষোভের জন্য পুলিশ নির্দিষ্টভাবে তিনটি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে—
- রামলীলা ময়দান
- উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান
- পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে, রাজধানীর নিত্যদিনের যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
আন্দোলনের খরচে ছ্যাঁকা! নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আন্দোলন চালানো বিরোধী দলগুলির পক্ষে কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে রামলীলা ময়দানে কোনো বড় কর্মসূচির আয়োজন করা এখন আকাশছোঁয়া ব্যয়বহুল। ১২ একরের বিশাল এই মাঠে একদিনের কর্মসূচি করতেই কর এবং ফেরতযোগ্য আমানতসহ (Refundable Deposit) মোট ১.২১ লক্ষ টাকা গুনতে হবে!
জায়গাও অমিল, এনওসি-র গেরো! শুধু বিশাল খরচই নয়, রয়েছে বুকিংয়ের মারাত্মক সমস্যাও। চলতি বছরে ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ছাড়া পুরো রামলীলা ময়দানই আগে থেকে বুক হয়ে রয়েছে। দিল্লি পুরনিগমের তথ্য অনুযায়ী, ময়দানের একটি ছোট্ট অংশে সর্বোচ্চ ১৫০ জনের জন্য বিনামূল্যে ছোটখাটো জমায়েতের অনুমতি রয়েছে— যা কোনো বড় রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
তার ওপর রয়েছে পুলিশের থেকে এনওসি (NOC) নেওয়া এবং একাধিক আইনি শর্তের কড়াকড়ি। সব মিলিয়ে, রাজধানীর রাজপথে নেমে আন্দোলনের দরজা কার্যত বন্ধ হতে বসায় চিন্তার মেঘ জমছে বিরোধী শিবিরে।
