পুজোর মরশুমে বড় উপহার মুখ্যমন্ত্রীর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং গরু ও মাদক পাচার রোধে রাজ্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
বৃহস্পতিবার লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো উদ্বোধনে যান শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত এই এলাকায় গিয়ে তিনি কেবল উৎসবের সূচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং স্থানীয় পরিকাঠামোর সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকার কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থার প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখেন। এছাড়া, এই বিধানসভা এলাকার উন্নয়নকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলেও জানান।
এলাকায় কারিগরি শিক্ষার সুযোগ প্রসারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতেই আইটিআই কলেজের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি, দ্রুত জমির ব্যবস্থা করার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেন। উচ্চশিক্ষার প্রসারেও একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকায় মেয়েদের জন্য একটি নতুন কলেজ চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, বর্তমান কলেজেও সকালের বিভাগ (Morning Shift) চালুর নির্দেশ দেন, যাতে আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও পরিকাঠামো বাড়ানোর জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এলাকার হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পেতে পারেন, সে জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
নিরাপত্তা ও পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর
লালবাগের এই অনুষ্ঠানে কেবল উন্নয়ন নয়, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ সংলগ্ন মুর্শিদাবাদে বেআইনি অনুপ্রবেশ, গরু ও মাদক পাচার রুখতে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না এবং গরু ও মাদক পাচার বর্তমানে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এলাকাটিকে একটি নেশামুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, মুর্শিদাবাদে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
