বিরাট উপার্জনের পরেও কেন মায়ের সাধ পূরণ করতে পারেননি বিদ্যাসাগর!

বিরাট উপার্জনের পরেও কেন মায়ের সাধ পূরণ করতে পারেননি বিদ্যাসাগর!

 

মায়ের প্রেরণাতেই নারীকল্যাণে ব্রতী হয়েছিলেন বিদ্যাসাগর: স্মৃতিচারণায় বংশধর

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্ম নিয়ে নতুন করে আলোকপাত করলেন তাঁর মেজো মেয়ে কুমুদিনী দেবীর বংশধর অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘সংস্কৃতি বিচিত্রা’ নামক একটি ইউটিউব পডকাস্টে তিনি বিদ্যাসাগরের মানবিকতা ও তাঁর মায়ের প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্রের জননী ভগবতী দেবী কেবল রত্নগর্ভা ছিলেন না, তাঁর আধুনিক ও উদার চিন্তাভাবনা বিদ্যাসাগরের মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। আজও বীরসিংহ গ্রামে ভগবতী দেবীর নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় ও গ্রামীণ হাসপাতাল তাঁর সেই জনহিতকর আদর্শের সাক্ষী বহন করছে। কথিত আছে, বিদ্যাসাগর তাঁর মায়ের ইচ্ছাতেই জনকল্যাণমূলক কাজে বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন। প্রথাগত অলংকারের চেয়েও ‘পরহিত’ই ছিল ভগবতী দেবীর কাছে শ্রেষ্ঠ অলংকার।

বিদ্যাসাগরের কর্মজীবনের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়েও আলোচনায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, পরবর্তীতে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি তৎকালীন সময়ে যথেষ্ট উচ্চ বেতনভুক্ত ছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ১৬ টাকা, অথচ বিদ্যাসাগরের মাসিক আয় ছিল কয়েকশো টাকা। এছাড়া নিজের প্রকাশনা ও বই বিক্রির মাধ্যমেও তিনি প্রচুর উপার্জন করতেন। এই বিপুল অর্থের সিংহভাগই তিনি অপরিচিত মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অকাতরে দান করে গেছেন।

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্ষেপ, সমাজ আধুনিক হলেও আমরা আজও বিদ্যাসাগরের প্রকৃত অবদানকে বিস্মৃতির আড়ালে ঠেলে দিচ্ছি। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিদ্যাসাগরের আদর্শ ও কাজকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত যথার্থই লিখেছিলেন, বিদ্যাসাগরের চরিত্রে প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজসুলভ কর্মশক্তি ও বাঙালি মায়ের কোমল হৃদয়ের এক দুর্লভ সংমিশ্রণ ঘটেছিল। উনিশ শতকের সেই অন্ধকার যুগে মায়ের অনুপ্রেরণা ও নিজের কর্মনিষ্ঠায় বিদ্যাসাগর যেভাবে নারীকল্যাণ ও শিক্ষা বিস্তারে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তা আজও ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় এক আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *