জরুরি অবস্থা নিয়ে সনিয়ার বিস্ফোরক দাবি, উত্তাল দিল্লির রাজনীতি!

এবেলা ডেস্কঃ
জরুরি অবস্থা ও গান্ধী পরিবার নিয়ে সনিয়ার মন্তব্যে সরগরম রাজনীতি, তোপ দাগল বিজেপি
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের জরুরি অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সনিয়া গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নিজের আসন্ন আত্মজীবনী ‘বিলিঙ্গিং: আ জার্নি অফ লাভ’-এর প্রচারের সময় জরুরি অবস্থা নিয়ে সনিয়ার বয়ানকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সনিয়া গান্ধী দাবি করেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির নেপথ্যে কেবল সঞ্জয় গান্ধী একাই দায়ী ছিলেন না, বরং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের প্রবল চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, সেই সময় দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা সামাল দিতেই সংবিধানের পরিধির মধ্যে থেকেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত করা গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত ছিল।
সনিয়ার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা চালি ভান্ডারি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সনিয়া গান্ধী ইতিহাস বিকৃত করে ইন্দিরা গান্ধীকে ‘ভিকটিম’ বা ভুক্তভোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। ভান্ডারির কথায়, “জরুরি অবস্থার দায় পুরোপুরি ইন্দিরা গান্ধীরই ছিল, ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।” একই সঙ্গে তিনি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য—‘একটি বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপবেই’—এর কঠোর সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, বিজেপির বর্ষীয়ান সাংসদ তরুণ চুঘ সনিয়া গান্ধীর বংশপরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি রামমন্দির নির্মাণের পথে বাধা সৃষ্টির জন্য গান্ধী পরিবারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, গান্ধী পরিবারের তিন প্রজন্ম রামমন্দির নির্মাণের পথ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল। এছাড়া সনিয়ার তোলা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর অবনতির অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, মোদী সরকারের অধীনে ভারত বর্তমানে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হারে এগিয়ে চলেছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর সনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে বই প্রকাশের আগেই জরুরি অবস্থা এবং সমসাময়িক ভারতের গণতান্ত্রিক অবস্থা নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
