শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল কি জালিয়াতির কবজায়, বাড়ছে উদ্বেগ!

এবেলা ডেস্কঃ
শিরোনাম: জাজল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিতর্ক: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার শর্তে ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন’ হওয়ার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাজল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই চুক্তির বেশ কিছু শর্ত নিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাজল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ সরকার এমন কিছু কঠিন শর্তে সম্মত হয়েছে, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সমালোচকরা। চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনাল থেকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখতে হবে। শুধুমাত্র হজ, চার্টার্ড এবং বাজেট ফ্লাইট ও অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানগুলো পুরোনো টার্মিনালগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেশন সীমিত করা এবং পুরাতন টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা যথাযথ ব্যবহার না করাটা যৌক্তিক নয়। এটি দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।”
চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত শর্ত হলো—আগামী ১৫ বছরের জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর পরিচালনা করা যাবে না। যদিও বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, সরকারের আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামাল দিতে নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এই শর্ত বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমানের মতে, “উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।”
রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়েও রয়েছে দীর্ঘ জটিলতা। জানা গেছে, জাজল কনসোর্টিয়াম প্রথমে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরবর্তীতে তা ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন যে, যথাযথ দর-কষাকষির অভাবে সরকার এখানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, ফলে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিমানবন্দরের আয় থেকেই সিভিল এভিয়েশন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন ঋণ পরিশোধ করা হয়। ফলে এই টার্মিনালের লভ্যাংশ ও পরিচালনা সংক্রান্ত শর্তগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বেবিচকের দাবি, চুক্তিতে বাংলাদেশের লাভের অংশ নিশ্চিত করেই সব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
