লাইভ শেষ হতেই মর্মান্তিক পরিণতি, তরুণী নেত্রীর রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড়!

এবেলা ডেস্কঃ
রাঁচিতে আদিবাসী নেত্রী নিশা কুমারী ভগতের রহস্যমৃত্যু, সিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার বিশিষ্ট আদিবাসী নেত্রী নিশা কুমারী ভগতের রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাঁচির পিথোরিয়া থানা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিশা আদিবাসী অধিকার রক্ষা, জমি সংরক্ষণ এবং ধর্মান্তরবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ছিলেন। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি গুমলা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।
ঘটনার দিন দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিশা অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকার ও প্রভাবশালী জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে তাঁকে লাগাতার হেনস্থা ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। লাইভ চলাকালীনই তিনি পিথোরিয়া থানার ওসি-কে ফোন করে ‘চরম পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা জানান। এরপরই লাইভ ভিডিও বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যার ঘটনা বলে অনুমান করা হলেও, নিশার পরিবার একে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে। নিশার বাবা হান্ডু ভগৎ ও মা দেবিকা ভগৎ অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হুমকি ও চাপের কারণেই তাঁর মেয়ের এই পরিণতি। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআই (CBI) হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
নিশার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ এবং সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ধর্মান্তর ও জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে লড়াই করার কারণেই নিশাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল জেএমএম (JMM)-এর দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করছে।
লড়াকু এই আদিবাসী নেত্রীর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশার অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর আসামাপ্ত লড়াইকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
