BJP-কেও টেক্কা দিল ‘ককরচ জনতা পার্টি’! মাত্র ৫ দিনেই ১ কোটি ফলোয়ার, কী এই CJP? – এবেলা

BJP-কেও টেক্কা দিল ‘ককরচ জনতা পার্টি’! মাত্র ৫ দিনেই ১ কোটি ফলোয়ার, কী এই CJP? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিজেপি-কেও পেছনে ফেলল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’, মাত্র ৫ দিনেই ১ কোটি ছাড়াল ফলোয়ার সংখ্যা! কী এই নতুন ট্রেন্ড?

ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সবাইকে চমকে দিয়ে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক বা ‘মিম’ (Meme) রাজনৈতিক দল সোশ্যাল মিডিয়ায় নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ইতিহাস ছাড়াই, এই পেজটি ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন)-রও বেশি ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল ট্রেন্ড দেখে বড় বড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এখন রীতিমতো হতবাক।

দলটির উৎপত্তি এবং সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য বিতর্ক

এই অভিনব ‘পার্টি’ বা আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং তার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। গত ১৫ মে একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত যুবসমাজকে ‘কাকরোচ’ বা আরশোলার সাথে তুলনা করেছেন বলে একটি খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ তরুণরা ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ নাম দিয়ে এই ডিজিটাল আন্দোলন শুরু করে। যদিও পরদিনই অর্থাৎ ১৬ মে বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্টীকরণ দিয়ে জানান যে, তিনি দেশের যুবসমাজকে লক্ষ্য করে ওই মন্তব্য করেননি; বরং যারা ভুয়ো ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট নিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, শুধু তাদের উদ্দেশ্যেই ওই কথা বলেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি-কংগ্রেসকে টক্কর

ভুল বোঝাবুঝি দূর হলেও সিজেপি (CJP)-র জনপ্রিয়তা কমার বদলে উলটে রকেটের গতিতে বাড়তে শুরু করে। বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে এটি ভারতের বড় বড় রাজনৈতিক দলকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে:

  • কংগ্রেস (@incindia): ১৩.২ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে।
  • কাকরোচ জনতা পার্টি (CJP): ১০.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
  • বিজেপি (@bjp4india): ৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।মাত্র ৫৬টি পোস্ট করেই ইনস্টাগ্রামে এই বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।

মিম থেকে ডিজিটাল গণআন্দোলন

শুরুতে কেবল মজার মিম শেয়ার করার জন্য এই পেজটি খোলা হলেও, বর্তমানে এটি দেশের যুবসমাজের ক্ষোভ প্রকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা, সাম্প্রতিক ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত অসন্তোষকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী ‘ডিজিটাল আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে এই পেজ। ইতিমধ্যেই দেশের বিখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো ব্যক্তিত্বরা এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ইনস্টাগ্রামে এটি রমরমিয়ে চললেও, মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘X’ (টুইটার)-এ এর অ্যাকাউন্টটি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকার মাঝেই হঠাৎ স্থগিত (সাসপেন্ড) করে দেওয়া হয়েছে।

এক ঝলকে

  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র জন্ম হয়।
  • মাত্র ৫ দিনে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটিরও বেশি ফলোয়ার পেয়ে এটি ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে বিজেপি-কেও পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে।
  • বর্তমানে এই পেজটি বেকারত্ব এবং নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর ইস্যুতে যুবসমাজের প্রতিবাদ প্রকাশের একটি বড় ডিজিটাল মাধ্যম।
  • ধ্রুব রাঠী ও প্রশান্ত ভূষণের মতো ব্যক্তিত্বরা একে সমর্থন করেছেন; তবে ‘X’ (টুইটার)-এ এই দলের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *