DA Case: সরকারি কর্মীদের বড় জয়! ২ মাসেই মেটাতে হবে বকেয়া ডিএ, না হলে দিতে হবে সুদ; কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পরিশোধের বিষয়ে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রারের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর-এর কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে রাজ্য সরকারকে বিলম্বিত সময়ের জন্য সুদসহ টাকা মেটাতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈষম্য নিরসনে কড়া বার্তা
আদালত রাজ্য সরকারের পূর্বের একটি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়েছে, যেখানে বয়সের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পেনশনভোগীদের বকেয়া মেটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পেনশনভোগীরা একটি একক সমজাতীয় শ্রেণী এবং তাঁদের মধ্যে এমন বিভাজন অসাংবিধানিক ও সমতার অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া, শীর্ষ আমলাদের (IAS, IPS) কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া এবং সাধারণ রাজ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে বিলম্ব করার দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। বিচারপতির নির্দেশ, কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্ধতি অনুসরণ করেই নিয়মিত কর্মী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।
বাংলার ডিএ আন্দোলনে নতুন আশার আলো
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের এই রায় পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গের কর্মীরা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ‘আর্থিক সীমাবদ্ধতা পাওনা অস্বীকারের ভিত্তি হতে পারে না’—আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বাংলার ডিএ মামলায় কর্মীদের আইনি যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে বাংলার ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যার দিকে তাকিয়ে আছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী।
এক ঝলকে
এই রায় বকেয়া ডিএ নিয়ে লড়াইরত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
দুই মাসের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট।
আর্থিক সংকটকে কর্মীদের পাওনা না দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়েছে আদালত।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটালে মূল অর্থের সঙ্গে সুদ দিতে বাধ্য থাকবে সরকার।
