E20 পেট্রোলে বিষাক্ত ক্লোরাইড ও জলের আতঙ্ক! সত্যিটা কী? আসল খবর জানাল তেল সংস্থাগুলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি ই২০ (E20) পেট্রোলে ৫০০ পিপিএম (500 ppm) পর্যন্ত বিষাক্ত ক্লোরাইড এবং জল থাকার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে গাড়িচালকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। অবশেষে এই আতঙ্ক দূর করতে বড়সড় আপডেট দিল দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC)। দেশজুড়ে কঠোর অনুসন্ধানের পর ওএমসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—E20 পেট্রোল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পরীক্ষার ফলাফলে কী উঠে এল?
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে রিফাইনারি থেকে শুরু করে ইথানল উৎপাদন কেন্দ্র, ডিপো, ট্যাঙ্কার এবং পেট্রোল পাম্প—পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষা চালানো হয়:
- রিফাইনারি: সরবরাহ করা পেট্রোলের ১০০টিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ক্লোরাইডের মাত্রা মাত্র ১ পিপিএম (ppm) বা তার কম পাওয়া গিয়েছে।
- ডিস্টিলারি: ৮০টি ডিস্টিলারি থেকে বিশুদ্ধ ইথানলের নমুনা পরীক্ষা করে যৌথ টাস্ক ফোর্স নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে ক্লোরাইডের মাত্রা ৩ পিপিএম-এর নিচে।
- ডিপো ও পেট্রোল পাম্প: দেশের ১,০০০টিরও বেশি পেট্রোল পাম্প ও ডিপো থেকে সংগৃহীত নমুনায় ক্লোরাইড পাওয়া গেছে মাত্র ০ থেকে ৩ পিপিএম। ফলে ৫০০ পিপিএম ক্লোরাইড থাকার দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
ত্রুটিযুক্ত ৪টি পাম্পে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
দেশজুড়ে চালানো এই অনুসন্ধানে মাত্র ৪টি পাম্পের জ্বালানিতে কিছুটা বেশি মাত্রায় ক্লোরাইড ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সেই পাম্পগুলির সরবরাহ বন্ধ করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সমস্যার সঠিক সমাধান করার পরেই সেখানে আবার জ্বালানি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে নজরদারি: পেট্রোলে জল মিশে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে দেশের প্রায় ৯০,০০০ পেট্রোল পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ বার জ্বালানির ঘনত্ব পরীক্ষা করার পাশাপাশি নমুনা যাচাইয়ের জন্য মাঠে নামানো হয়েছে মোবাইল ফুয়েল কোয়ালিটি টেস্টিং ল্যাবরেটরি।
সরকার নির্ধারিত কঠোর মানদণ্ড মেনেই E20 পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে তেল সংস্থাগুলি। তাই যেকোনো গুজবে কান না দিয়ে নিশ্চিন্তে E20 পেট্রোল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
