অচেনা ব্যক্তির দেওয়া পানীয় বদলে দিল জীবন! নাইটক্লাবে ১৮ বছরের তরুণীর সাথে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা – এবেলা

অচেনা ব্যক্তির দেওয়া পানীয় বদলে দিল জীবন! নাইটক্লাবে ১৮ বছরের তরুণীর সাথে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে যা দেখে যে কেউ শিউরে উঠতে পারেন। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা। যুক্তরাজ্যের ১৮ বছর বয়সী মিলি ট্যাপলিনের সাথে ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, অচেনা ব্যক্তির দেওয়া পানীয় কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রথমবার নাইটক্লাবে গিয়েই বিভীষিকা

২০২১ সালের আগস্ট মাসে নিজের ১৮তম জন্মদিনের পর প্রথমবারের মতো বন্ধুদের সাথে একটি নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন মিলি। সাউথএন্ডের ‘মু মু’ নাইটক্লাবে পার্টি চলাকালীন এক অচেনা ব্যক্তি তাকে ‘ভদকা লেমনেড’ অফার করে। মিলি সেই পানীয়র মাত্র কয়েক চুমুক পান করেছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তার মুখ অবশ হয়ে যায় এবং হাত-পা শক্ত হয়ে কুঁচকে যেতে শুরু করে। সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয় ছিল যে, মিলি মানসিকভাবে সচেতন থাকলেও তার শরীর পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছিল। তিনি কথা বলতে বা চলাফেরা করতে পারছিলেন না।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও ড্রাগ স্পাইকিং

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মিলির পানীয়তে দুই ধরণের মাদক মেশানো হয়েছিল। একটির কাজ ছিল শরীরকে পঙ্গু বা অবশ করে দেওয়া এবং অন্যটি ব্যক্তিকে অচেতন করে ফেলা। এই ধরণের অপরাধকে বৈশ্বিক পরিভাষায় ‘ড্রিঙ্ক স্পাইকিং’ বলা হয়। এটি এমন এক অপরাধ যেখানে ভুক্তভোগীর অজান্তেই তার পানীয়তে মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত চুরি বা যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে অপরাধীরা এই পথ বেছে নেয়।

ড্রিঙ্ক স্পাইকিং আসলে কী

ড্রিঙ্ক স্পাইকিং বর্তমান সময়ের একটি গুরুতর অপরাধ। এতে সাধারণত রোহিপনল বা জিএইচবি-র মতো মাদক ব্যবহার করা হয়। এই পদার্থগুলোর কোনো রঙ, গন্ধ বা স্বাদ থাকে না, ফলে পানীয়র সাথে মিশিয়ে দিলে তা শনাক্ত করা প্রায় আসাম্ভব। এই ড্রাগগুলো মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা কেড়ে নেয় এবং শরীরকে অবশ করে দেয়। মিলির মা ক্লিয়ার ট্যাপলিন হাসপাতালের সেই ভয়াবহ অবস্থার ভিডিও শেয়ার করে বিশ্বজুড়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকি

যদিও এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের, তবে ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে ড্রিঙ্ক স্পাইকিংয়ের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। দিল্লি, মুম্বাই বা ব্যাঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতেও একই ধরণের অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাদকগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যেই শরীরে কাজ শুরু করে দেয়। মিলি কয়েক ঘণ্টা পর সুস্থ হয়ে উঠলেও তার মনে এই ঘটনা গভীর ট্রমা বা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

পার্টি বা নাইটক্লাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

  • নিজের পানীয় সর্বদা নিজের তত্ত্বাবধানে রাখুন এবং সরাসরি বারটেন্ডারের কাছ থেকে বুঝে নিন।
  • অচেনা বা অল্প পরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কোনো পানীয় গ্রহণ করবেন না।
  • বন্ধুদের সাথে বাইরে গেলে একে অপরের ওপর নজর রাখুন যেন কেউ একা না পড়ে।
  • পানীয় পান করার পর হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করলে দ্রুত বিশ্বস্ত কাউকে জানান।

এক ঝলকে

  • ভুক্তভোগী: ১৮ বছর বয়সী মিলি ট্যাপলিন।
  • ঘটনা: অচেনা ব্যক্তির দেওয়া পানীয় পান করে শরীর অবশ হয়ে যাওয়া।
  • কারণ: ড্রিঙ্ক স্পাইকিং বা পানীয়তে মাদক মিশ্রিত করা।
  • লক্ষণ: কথা বলতে না পারা, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মুখ অবশ হওয়া।
  • বার্তা: অপরিচিতদের দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলা এবং জনসমক্ষে সতর্ক থাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *