অজিত পাওয়ারের মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের রাজনীতির হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক মাস পর সামনে এল চাঞ্চল্যকর প্রাথমিক তথ্য। বারামতি বিমানবন্দরে সেই অভিশপ্ত অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ‘এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (AAIB)-এর পেশ করা রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক ইঙ্গিত। তদন্তকারীদের হাতে আসা ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়েছে পাইলটদের চরম আতঙ্কের মুহূর্ত, যা এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
মৃত্যুর আগে পাইলটের শেষ শব্দ ‘ও শিট’
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে (CVR) পাইলটদের অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায় ‘ও শিট, ও শিট’ বলতে শোনা গিয়েছে। এই শব্দগুলোই প্রমাণ করে যে, শেষ মুহূর্তে তাঁরা এমন কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন যা তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। যদিও আগুনের তাপে ভয়েস রেকর্ডারটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে মার্কিন সংস্থা ‘হানিওয়েল’-এর সহায়তায় সেই অডিও ডেটা পুরোপুরি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতের তদন্তকারী দল।
কাঠগড়ায় বারামতি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা
রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া শান্ত থাকলেও দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি ছিল মাত্র ৩ কিলোমিটার। এই সামান্য দৃশ্যমানতার মধ্যে বারামতি বিমানবন্দরের মতো ছোট এয়ারফিল্ডে চার্টার্ড বিমান অবতরণ করানো কতটা নিরাপদ ছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে AAIB। বিশেষ করে ভিআইপি মুভমেন্ট থাকা সত্ত্বেও সেখানে কেন আধুনিক অবতরণ সহায়ক ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত আবহাওয়া সংক্রান্ত (MET) পরিষেবা ছিল না, তা নিয়ে ডিজিসিএ-কে কড়া সুপারিশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তদন্তের নজরদারি
এই হাই-প্রোফাইল দুর্ঘটনার রহস্যভেদে এবার ময়দানে নেমেছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড’ (NTSB) এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন’ (ICAO)-এর প্রতিনিধিরা প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছেন। সলিড স্টেট ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (SSFDR) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে বিমানের ইঞ্জিনে কোনো ত্রুটি ছিল কি না। ইতিমধ্যেই বিমানের যাবতীয় নথি এবং ধ্বংসাবশেষ বাজেয়াপ্ত করে একটি সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
বারামতি দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, বারামতি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টার সময় অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমানটি ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এনসিপি নেতার পাশাপাশি প্রাণ হারান দুই পাইলট এবং তাঁর ব্যক্তিগত দুই নিরাপত্তারক্ষীও। প্রাথমিক রিপোর্টে রানওয়ে এবং এয়ারফিল্ডের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা নিয়ে যে ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে, তা ভবিষ্যতে ভিআইপি উড়ানের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল।
এখন দেখার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের সম্পূর্ণ তথ্য উদ্ধার হওয়ার পর অজিত পাওয়ারের এই অকাল প্রয়াণের পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পরিকাঠামোগত গাফিলতি দায়ী ছিল, তা স্পষ্ট হয় কি না।

