‘অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানাতেই জমি আটকাচ্ছেন মমতা’, হাইকোর্টের নির্দেশ হাতিয়ার করে তোপ শাহের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর নিয়ে রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাত চরমে। শনিবার ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক চরমসীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশকে হাতিয়ার করে শাহ স্পষ্ট দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার চেয়েও তৃণমূলের কাছে বড় হলো ‘অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাঙ্ক’।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও শাহের আক্রমণ
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য ১৮০ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় টাকা অনেক আগেই মিটিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না— এই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে অধিগ্রহণ করা জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে অমিত শাহ বলেন, “আমি সংসদেও বলেছিলাম রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলেই ফেন্সিংয়ের কাজ থমকে আছে। এখন হাইকোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছে ৩১ মার্চের মধ্যে জমি দিতে হবে। কিন্তু আমি জানি উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জমি দেবেন না। কারণ অনুপ্রবেশকারীরাই ওঁর দলের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক। অনুপ্রবেশ রুখতে এই সরকারের কোনও সদিচ্ছা নেই।”
জাতীয় নিরাপত্তা ও আসাম মডেল
বিএসএফ-কে জমি না দেওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে আদালতে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি রাজ্য সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিশেষ প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা ব্যবহার করার ক্ষমতা রাজ্যের রয়েছে। সেই সুরেই শাহ অভিযোগ করেন, ইচ্ছা করেই সীমান্তকে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।
অমিত শাহের দাবি, “বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে অনুপ্রবেশ হতে পারে না। আসামে আগে অবাধে অনুপ্রবেশ চলত, কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। বাংলাতেও সেই একই মডেল কার্যকর করা হবে।”
৪৫ দিনের চরম সময়সীমা
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে এ দিন সরাসরি সরকার বদলের ডাক দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করে শাহ প্রতিশ্রুতি দেন, “এপ্রিলে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
নির্বাচনের আগে সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের এই চিরন্তন ইস্যুকে হাইকোর্টের নির্দেশের মাধ্যমে নতুন করে উসকে দিয়ে তৃণমূলকে চরম চাপে ফেলার কৌশল নিলেন শাহ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

