অন্য কাউকে ভোট দিলে আর সম্পর্ক রাখব না, মালদহের নির্বাচনী প্রচারে আবেগপ্রবণ মমতা

অন্য কাউকে ভোট দিলে আর সম্পর্ক রাখব না, মালদহের নির্বাচনী প্রচারে আবেগপ্রবণ মমতা

তৃণমূল নেত্রীর নির্বাচনী প্রচার মানেই সাধারণত সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান এবং বিরোধীদের প্রতি আক্রমণ। তবে শনিবার মালদহের মালতিপুরের জনসভায় ধরা পড়ল এক ভিন্ন ছবি। রতুয়া, মালতিপুর ও হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনতাকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে তিনি জানান, তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখবেন না। উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষের জন্য অনেক কিছু করার পরেও যখন কেউ ‘বেইমানি’ করে, তখন তিনি ব্যথিত হন।

মঞ্চ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। যদি অন্য কাউকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আর আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না।” তবে একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বললেও তিনি সাধারণ মানুষের উন্নয়ন বা সরকারি পরিষেবা বন্ধ করবেন না। বরং মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলে তিনি মানসিকভাবে আসাম্মানিত বোধ করবেন বলে প্রকাশ করেন। তৃণমূল না থাকলে বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করার মতো আর কেউ থাকবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিন মালদহের সভা থেকে কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং মিম-কে একযোগে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি আসন জিতে কংগ্রেস কীভাবে সরকার গড়বে? বামেদের বিজেপির সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি নাম না করে হায়দরাবাদের দল মিম-কে ‘বিজেপির টাকায় উড়ে আসা পাখি’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিরোধীরা রাজ্যের মানুষের স্বার্থে লড়াই করবে না বলে দাবি করে তিনি সাধারণ মানুষকে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ এবং ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ যাওয়ার হয়রানি নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছে তৃণমূল। যাদের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি, তাদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান যে রাজ্য সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মানুষের হয়রানি রুখতে তৃণমূল নেত্রী এদিন ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *