অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, বাংলায় ১২ হাজারেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 25, 202610:53 am
রাজ্যজুড়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপড়েন ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। প্রথম দিনেই ৭০ জন যোগ্য ও নতুন চাকরিপ্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সুপারিশপত্র। মোট ১২,৪৪৫টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে ৫০০টি শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধের জয় এবং আবেগঘন মুহূর্ত
দীর্ঘদিন নিয়োগ থমকে থাকার পর সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে বিকাশ ভবনের সামনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজারহাটের বাসিন্দা নৃতত্ত্বের ছাত্রী নাদিরা কালামের মতো নতুন চাকরিপ্রার্থীরা যেমন প্রথম সুযোগেই সুপারিশপত্র পেয়ে আপ্লুত, ঠিক তেমনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন যোগ্য অথচ একসময় চাকরি হারানো প্রার্থীরা। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে অনেকের চোখেই ছিল জল, তবে সেই জল ছিল দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যুদ্ধজয়ের হাসির। যদিও নথিতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় এদিন দু-তিনজনকে সুপারিশপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কাউন্সেলিংয়ের সময়সূচি ও পরবর্তী ধাপ
এসএসসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মোট সাতটি বিষয়ের ১৮২ জন প্রার্থীকে সুপারিশপত্র দেওয়া হবে। তবে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিতীয় পর্বের কাউন্সেলিং কবে শুরু হবে? এই বিষয়ে এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমানে কমিশনের আধিকারিক ও কর্মীরা আসন্ন গ্রুপ সি এবং ডি-র পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। আগামী ১ ও ৮ মার্চ রাজ্যজুড়ে ১৭০০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ভোট পরবর্তী নিয়োগের সম্ভাবনা
অনেকেই আশা করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সমস্ত যোগ্য প্রার্থী স্কুলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এখন কাউন্সেলিংয়ের জন্য সকলকে ডেকে সামলানো সম্ভব নয়। পরীক্ষার বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হওয়ার পরেই দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং শুরু করা সম্ভব হবে। ফলে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, চাকরিহারা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়ে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে কিছু বিরোধ থাকলেও, এদিন নিয়োগের সামগ্রিক খুশিতে সেই বিতর্ক অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
পরবর্তী ধাপে আরও কতজন চাকরিপ্রার্থী এই তালিকায় জায়গা পান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের কয়েক হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতী।

