অভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজিমাত, মিড ডে মিল কর্মীর ছেলে আজ দেশের আইএএস অফিসার! – এবেলা

অভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজিমাত, মিড ডে মিল কর্মীর ছেলে আজ দেশের আইএএস অফিসার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’—এই চিরন্তন সত্যকে আরও একবার সমাজমঞ্চে প্রমাণ করে দেখালেন এক লড়াকু তরুণ। কোনো বিলাসবহুল জীবন বা নামী-দামি কোচিং সেন্টারে পড়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও, শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস এবং মায়ের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছেন ডোঙ্গরে রেভাইয়াহ। চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক অনটনকে পেছনে ফেলে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪১০ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে আজ তিনি একজন আইএএস (IAS) অফিসার। বাবার সামান্য আয়ে যেখানে সংসার চালানোই ছিল দায়, সেখানে পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল এক প্রকার বিলাসিতা। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে রেভাইয়াহর এই রূপকথা আজ দেশের কোটি তরুণ-তরুণীর অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।

কর্পোরেট কেরিয়ার ছেড়ে দেশসেবার তাগিদ

ডোঙ্গরে রেভাইয়াহ ছাত্র হিসেবে বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। সিভিল সার্ভিসে আসার আগে তিনি নিজের কারিগরি মেধার বড় স্বাক্ষর রেখেছিলেন। দেশের অন্যতম কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘গেট’ (GATE)-এ দুর্দান্ত ফলাফল করেছিলেন তিনি। এর ফলে তাঁর সামনে একটি সুরক্ষিত এবং মোটা মাইনের কর্পোরেট কেরিয়ার গড়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের জন্য সরাসরি কাজ করার এক গভীর তাগিদ তিনি নিজের ভেতরে অনুভব করতেন। আর সেই কারণেই বহুজাতিক সংস্থার নিশ্চিত ও লোভনীয় চাকরি ছেড়ে তিনি বেছে নেন ইউপিএসসির মতো অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতির সময় তৈরি হওয়া কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং পরিশ্রমের অভ্যাসকেই তিনি পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।

দামি কোচিং ছাড়াই অসাধ্য সাধন ও সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমান যুগে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দেশের অধিকাংশ পরীক্ষার্থী যখন দিল্লি বা বড় বড় শহরের ব্যয়বহুল কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে রেভাইয়াহ প্রমাণ করলেন যে সাফল্যের জন্য পকেটের জোর নয়, বরং সঠিক রণকৌশল ও মনের জোরই যথেষ্ট। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কোনো বড় কোচিং সেন্টারের সাহায্য নিতে পারেননি। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার, লাইব্রেরিতে দিনের পর দিন কাটানো এবং বিগত বছরগুলোর সফল পরীক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে তিনি নিজের পড়াশোনার রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যেকোনো বিনোদন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখে তিনি এই কঠিন তপস্যা চালিয়ে যান। রেভাইয়াহর এই অভাবনীয় সাফল্য সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এক দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দামি কোচিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর পড়াশোনার প্রতি নতুন প্রজন্মকে প্রবলভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *