অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কোহিনুর, মমতা সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কোহিনুর, মমতা সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা থাকা বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ড চলাকালীন তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে বিপাকে ফেলতে নেপথ্যে থেকে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন খোদ দলেরই সেনাপতি।

মমতাকে গদিচ্যুত করার চক্রান্তের অভিযোগ

কোহিনুর মজুমদারের দাবি, আরজি কর আন্দোলনের উত্তাল আবহে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোণঠাসা ছিল, তখন সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে গদিচ্যুত করতে ‘পিছন থেকে কলকাঠি’ নেড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোহিনুরের এই বয়ান তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে দীর্ঘদিনের ‘পুরনো বনাম নতুন’ দ্বন্দ্বের জল্পনাকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

কসবা ল কলেজ ও অভিষেক অফিসের চাপ

অভিষেকের বিরুদ্ধে কেবল ষড়যন্ত্রের অভিযোগই নয়, বরং দাদাগিরি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন কোহিনুর। তিনি জানান, কসবা ল কলেজের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেছিলেন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তাঁকে জোর করে তাঁর পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সাসপেন্ড হওয়া মুখপাত্রের পাল্টা তোপ

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে আগেই কোহিনুর মজুমদারকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তিনি যেভাবে একের পর এক গোপন তথ্য সামনে আনছেন, তা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কোহিনুরের দাবি, সত্য বলার কারণেই তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছিল এবং দলের মধ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজস্ব এজেন্ডা কার্যকর করার চেষ্টা করছিল।

রাজনৈতিক মহলে প্রভাব

কোহিনুর মজুমদারের এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে আরজি করের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দলের ভেতরেরই একজনের এমন অভিযোগ তৃণমূল শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কোহিনুরের এই ‘বোমা’ ফাটানোর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না। মূলত শাসক বনাম বিরোধী নয়, এবার তৃণমূলের অন্দরের ‘গৃহযুদ্ধই’ রাজনীতির মূল চর্চায় চলে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *