অভিষেকের আগমন ঘিরে ধুন্ধুমার কলকাতা বিমানবন্দরে, ব্রাত্য-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ৫ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই শাসকদলের এক কাউন্সিলরসহ পাঁচজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এলাকায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
হঠাৎ কেন রণক্ষেত্র বিমানবন্দর চত্বর
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন একদল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে, বিজেপির একদল কর্মীও সেখানে উপস্থিত হন। তৃণমূলের অভিযোগ, অভিষেককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং ডিম ছোড়ার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির, এমনকি তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। এই পাল্টা-পাল্টি জমায়েতকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও মারামারির রূপ নেয়।
ধস্তাধস্তির জেরে বিমানবন্দর চত্বরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মূল প্রবেশদ্বার এড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিমানবন্দর থেকে নির্বিঘ্নে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব
শুক্রবার রাতের এই হিংসাত্মক ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং শনিবার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে বিমানবন্দর এলাকার মতো উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত জোনে সাধারণ যাত্রী ও আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। একইসঙ্গে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তারের পর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
