অভিষেকের ঘনিষ্ঠ ঋতব্রতর নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’ গঠন, কুণালের তীব্র তোপ বিদ্রোহী বিধায়কদের – এবেলা

অভিষেকের ঘনিষ্ঠ ঋতব্রতর নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’ গঠন, কুণালের তীব্র তোপ বিদ্রোহী বিধায়কদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ক্ষমতার সংঘাত এবার এক চরম মহাসঙ্কটে রূপ নিয়েছে। দলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ গঠন করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তীব্র ডামাডোলের মধ্যেই মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট করে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্যে কুণালের এই বার্তা নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

অভিষেককে নিশানা ও বিদ্রোহীদের দ্বিচারিতার অভিযোগ

বিদ্রোহী বিধায়কদের বেশির ভাগই মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছাড়লেও, কুণাল ঘোষ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ঋতব্রত স্বয়ং অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কুণাল তাঁর পোস্টে লেখেন, অভিষেকই ঋতব্রতকে আইএনটিটিইউসির সভাপতি করেছিলেন, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন এবং দল সরকার গড়লে মন্ত্রীও করতেন। ফলে একদিকে মুখে অভিষেকের বিরোধিতা করা এবং অন্যদিকে অভিষেকের দাক্ষিণ্যে দলে আশ্রয় পাওয়া ঋতব্রতকে নেতা মেনে নেওয়া বিদ্রোহীদের চরম ‘দ্বিচারিতা’। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, তৃণমূলের প্রতীক ও কর্মীদের ভরসায় ভোটে জিতে আজ বিশেষ কারণে সংখ্যা দেখিয়ে খবরে থাকা গেলেও, পরবর্তীতে এলাকার সাধারণ কর্মী ও মানুষের কাছে তাঁরা মুখ দেখাবেন কীভাবে? বর্ষীয়ান ও অনুগত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বনাম দলবদলু ঋতব্রতর মধ্যে কাকে নেতা বাছা হচ্ছে, তার ওপর বিদ্রোহীদের রুচি নির্ভর করছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহী শিবিরে ফাটলের ইঙ্গিত

এই গভীর রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ। একদিকে মমতাপন্থীরা দলের আদি ও অনুগত নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে, অন্যদিকে একটি অংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের দাপট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তবে এই বিদ্রোহের মধ্যেই এখন ফাটলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে পাশে সরিয়ে রাখার তত্ত্ব তাঁরা মানবেন না, বরং তিনি যে দলের একমাত্র নেত্রী—এই অবস্থানেই তাঁরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।

এই দলীয় বিভাজনের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য বড়সড় ধাক্কা খেল। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনে শাসকদলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দুর্বল করতে পারে এবং সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *