লেটেস্ট নিউজ

অভিষেকের তুরুপের তাস এবার রাজ্যসভায়, সুপ্রিম কোর্টের সেই দুঁদে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে নিয়ে কেন কাঁপছে দিল্লি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে Supreme \titleonly কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর নাম। রাজনীতির অলিন্দে এই নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেনকা যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে তাঁর আগামীর সংসদীয় রণকৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবিধানের আদর্শই জীবনের ধ্রুবতারা

মনোনয়ন পাওয়ার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মেনকা গুরুস্বামী নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সংবিধানের সাম্য, মৈত্রী এবং বৈষম্যহীনতার যে মূল আদর্শ, তাই তাঁর জীবনের চালিকাশক্তি। মেনকা লিখেছেন, “আমাদের সংবিধানের এই মূল্যবোধগুলোই আমার কাজের দিশারি। আমি এই আদর্শগুলিকেই দেশের উচ্চকক্ষে বা সংসদে বয়ে নিয়ে যেতে চাই।” বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করার অঙ্গীকারও করেছেন।

কেন মেনকা গুরুস্বামীকে বেছে নিলেন মমতা-অভিষেক

তৃণমূল শিবিরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবী সাংসদ থাকলেও, জাতীয় স্তরে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বা কপিল সিবালের মতো আইনি ব্যক্তিত্বের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই বোধ করছিল দল। অতীতে সিঙ্ঘভি তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভায় গেলেও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলিতে এই স্তরের আইনজীবীদের পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছে কালীঘাট। আরজি কর মামলা থেকে শুরু করে আই-প্যাক বা এসআইআর মামলা— প্রতিটি ক্ষেত্রে মেনকার ক্ষুরধার যুক্তি এবং আগ্রাসী সওয়ালের ধরন নবান্নের শীর্ষমহলকে মুগ্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক আঙিনায় উজ্জ্বল এক নাম

মেনকা গুরুস্বামী কেবল ভারতের আদালত কক্ষেই সীমাবদ্ধ নন, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর খ্যাতি আকাশছোঁয়া। তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হলো বিতর্কিত ‘৩৭৭ ধারা’ বাতিল করার লড়াইয়ে জয়লাভ করা, যা সমলিঙ্গ সম্পর্ককে আইনি বৈধতা দিয়েছিল। ২০১৯ সালে ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এছাড়া ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকার বিচারে তিনি অন্যতম সেরা ‘গ্লোবাল থিঙ্কার’। রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ করে ইউনিসেফের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের সংবিধান প্রণয়ন পর্বেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সংসদের উচ্চকক্ষে নতুন লড়াইয়ের সংকেত

মেনকা গুরুস্বামীর মতো একজন ‘হেভিওয়েট’ আইনি মস্তিষ্ককে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইকে আরও জোরদার করতে চাইছে। একদিকে আমলাতন্ত্রের সংস্কার, অন্যদিকে মানবাধিকার রক্ষা— এই দুই ক্ষেত্রেই মেনকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সংসদের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, Supreme \titleonly কোর্টের এই দুঁদে আইনজীবী সংসদের অন্দরে বাংলার হয়ে কতটা জোরালো সওয়াল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *