লেটেস্ট নিউজ

অভিষেকের হাত ধরে লাল ছেড়ে তৃণমূলে প্রতিকুর রহমান, বাম শিবিরে বড় ধাক্কা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজনৈতিক জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন সিপিএমের বহিষ্কৃত নেতা প্রতিকুর রহমান। শনিবার বিকেলে আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা তুলে নিলেন তিনি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রতিকুর, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে সেই চিরশত্রুর শিবিরেই নাম লেখালেন এই তরুণ তুর্কি।

জল্পনার অবসান ও আমতলার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

শনিবার বিকেল থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আমতলায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে দলীয় সতীর্থদের নিয়ে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক চারটে নাগাদ সেখানে সশরীরে হাজির হন প্রতিকুর রহমান। তিনি কার্যালয়ে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে, এসএফআই রাজ্য দফতরে তাঁর নামে বরাদ্দ লকারটি থেকে নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিকুরের দলবদলের বিষয়টি বাম নেতৃত্ব আগেই আঁচ করতে পেরেছিল।

ব্যর্থ হলো বিমান বসুর মানভঞ্জনের চেষ্টা

প্রতিকুর রহমান দল ছাড়তে পারেন, এমন ইঙ্গিত পেয়ে তাঁকে ধরে রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। খোদ প্রবীণ জননেতা বিমান বসু ব্যক্তিগতভাবে প্রতিকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর মানভঞ্জনের চেষ্টা করেছিলেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে। এমনকি সাধারণ বাম কর্মী-সমর্থকরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর থেকে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শনিবারের দলবদলের ছবি স্পষ্ট করে দিল যে, আলিমুদ্দিনের ‘ধরে রাখার’ নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

১৯ নম্বর ধারায় বহিষ্কার ও বামেদের রক্তক্ষরণ

প্রতিকুর ও অভিষেকের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আর দেরি করেনি সিপিএম নেতৃত্ব। দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারা এবং ৫৬ নম্বর উপধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করা হয়। লোকসভা নির্বাচনের সময় ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে বামেদের হয়ে লড়া এই তরুণ নেতার বিদায়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাম সংগঠনে বড়সড় ফাটল ধরল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বদলে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমীকরণ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখন কার্যত পাখির চোখ সব রাজনৈতিক দলের। তার আগে প্রতিকুর রহমানের মতো একজন লড়াকু নেতার তৃণমূলে যোগদান নিশ্চিতভাবেই ঘাসফুল শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি করল। অন্যদিকে, বামেদের কাছে এটি বড় ধাক্কা, কারণ ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকায় প্রতিকুরের নিজস্ব একটি জনভিত্তি রয়েছে। অভিষেকের হাত ধরে এই প্রতীক বদল আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *