অমিত শাহকে বরখাস্ত করুন, মোদীকে সরাসরি ‘পরামর্শ’ রাহুলের – এবেলা

অমিত শাহকে বরখাস্ত করুন, মোদীকে সরাসরি ‘পরামর্শ’ রাহুলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে অনড় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদচ্যুত করার দাবি জানালেন তিনি। বুধবার কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি বা আরএসএস-এর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

এর আগে লোকসভায় অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের ওপর আলোচনা চলাকালীন রাহুল অভিযোগ তুলেছিলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর বলপ্রয়োগ ও ছররা বন্দুক চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই নিয়ে সংসদে শাসকদলের ব্যাপক হইচই ও ক্ষমা চাওয়ার দাবির পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা ঘোষণা করেন কংগ্রেস নেতা।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, “অমিত শাহকে অবিলম্বে বরখাস্ত করুন – প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমি এই পরামর্শই দেব।” সংসদের ভেতরে তাঁকে বক্তব্য শেষ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতা এও বলেন, “রাজনাথ সিং এবং কিরেন রিজিজুকে বারবার কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আমি যদি ক্ষমা চাই, তবে আমাকে বাকি বক্তব্য রাখতে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, বিজেপি বা আরএসএস-এর কাছে আমি কখনই ক্ষমা চাইব না।”

আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশের অত্যাচার নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষা প্রয়োগ করেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, ছররা বুলেটের আঘাতে এক ছাত্রের চোখ নষ্ট হতে বসেছে। তাঁর দাবি, তিনি নিজে এই সংক্রান্ত এইমস-এর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখেছেন। মহিলা ও নাবালক আন্দোলনকারীদের ওপর পেরেক মারা লাঠি ও ইলেকট্রিক শক ব্যাটন ব্যবহার করেছে পুলিশ বলেও অভিযোগ তুলেছেন রাহুল।

পাশাপাশি রাহুল এও দাবি করেন, আন্দোলন চলার সময় তিনি নিজের চোখে দেখেছেন অমিত শাহ পুলিশ অফিসারদের ফোন করছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের ফোনে বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন আসছিল। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরেই হচ্ছিল।

রাহুলের এই সমস্ত অভিযোগকে শুরু থেকেই ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলনকারীদের ওপর কোনও গুলি বা ছররা চালানো হয়নি। পুলিশ কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছিল।

বুধবার হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী বিল পাস হয়ে গেলেও, রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনের পর দিল্লি ও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের পারদ আরও চড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *