অষ্টম বেতন কমিশনে বড় চমক, ফ্যামিলি ফর্মুলায় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ছুঁতে পারে ৬৯ হাজার টাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অভূতপূর্ব বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বেতন কমিশনে ‘ফ্যামিলি ইউনিট’ বা পরিবারের সদস্যসংখ্যার হিসাব পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়েছে। এই নতুন ‘ফ্যামিলি ফর্মুলা’ বা পারিবারিক এককের সূত্রটি যদি কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করে, তবে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন একধাক্কায় ১৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কী এই নতুন ফ্যামিলি ফর্মুলা
বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর ঠিক কতজন মানুষ নির্ভরশীল, তার ওপর ভিত্তি করেই পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার খরচ নির্ধারণ করা হয়। এত দিন পর্যন্ত পুষ্টিবিদ ড. ডব্লিউ. আর. আইক্রয়েডের তৈরি করা ‘আইক্রয়েড সূত্র’ মেনে একটি পরিবারকে ৩টি একক বা ইউনিট হিসেবে গণ্য করা হতো। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতেন কর্মচারী, তাঁর জীবনসঙ্গী এবং দুই সন্তান। এই হিসেবে কর্মচারীর পিতা-মাতা বা প্রবীণ অভিভাবকেরা এত দিন বেতন কমিশনের কাঠামোর বাইরে ছিলেন।
তবে এবার ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (এনসি-জেসিএম) এই ফ্যামিলি ইউনিট ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ করার জোরালো দাবি তুলেছে। নতুন এই প্রস্তাবিত সূত্রে সরকারি কর্মী ও তাঁর জীবনসঙ্গীকে ১ ইউনিট করে, দুই সন্তানকে ০.৮ ইউনিট এবং নির্ভরশীল পিতা-মাতাকে একত্রে ০.৮ ইউনিট হিসেবে ধরে মোট ৫ ইউনিটের একটি আসন্ন মান তৈরি করা হয়েছে। ‘পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের ভরণপোষণ ও কল্যাণ আইন’ এবং ‘সামাজিক সুরক্ষা আইন, ২০২০’-এর আইনি বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখেই এই দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে মহিলা কর্মচারীরা তাঁদের শ্বশুর-শাশুড়িকেও পরিবারের অংশ করতে পারবেন।
বেতন ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
পরিবারের সদস্যসংখ্যার পরিমাপ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহণের মতো মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় খাতের খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। এই বর্ধিত খরচের সমীকরণটি যদি কমিশন গ্রহণ করে, তবে তার সরাসরি ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মচারীদের মূল বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশনের ওপর। কর্মী সংগঠনগুলির মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।
১৯৪৬ সালে দেশে প্রথম বেতন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এযাবৎ ৭টি বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন দেশের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীসহ প্রায় ১১০ কোটি মানুষ। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং বিপুল সংখ্যক পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক ঐতিহাসিক ও দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
