অস্বাভাবিক ফর্ম-৬ জমা নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি, সিসিটিভি ফুটেজ ও তালিকা প্রকাশে রাজি কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন নাম নথিভুক্তকরণ বা ‘ফর্ম-৬’ জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে, যার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পর মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, কতগুলি ফর্ম-৬ জমা পড়েছে এবং সেই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও তালিকা প্রকাশ করতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে কমিশন।
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার অবৈধ ফর্ম-৬ জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ সিইও দফতরে গিয়ে এই বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভিনরাজ্যের ‘পরিযায়ী’ ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে বাংলার নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের একাংশ মদত দিচ্ছে। সিইও অফিসের দোতলায় কী নথিপত্র রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুতে কমিশন সিসিটিভি ফুটেজ দিতে রাজি হওয়ায় তৃণমূল একে নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর নির্দেশে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক এনে এই আবেদনপত্রগুলি জমা দেওয়া হচ্ছে। বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নষ্ট করে একে অন্য রাজ্যের রূপ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা রুখতে বিধানসভাভিত্তিক তালিকা যাচাই করার দাবি জানিয়েছে শাসক দল। কমিশনের এই পদক্ষেপের পর ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জল ঘোলা কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
