আইএস-আইপিএস বদলি মামলায় কেন ব্যাকফুটে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
নির্বাচন কমিশনের বদলি আদেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট, বহাল হাইকোর্টের রায়
সামন্নিত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের একগুচ্ছ আইএএস ও আইপিএস আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্তে বড় স্বস্তি পেল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল থাকছে। এর ফলে, রাজ্য পুলিশের ৩৭৫ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও রিটার্নিং অফিসার বদলির বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হলো।
আইনি লড়াই ও আদালতের অবস্থান
আদালতে রাজ্যের কৌশলী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, এবার কোনো রকম পরামর্শ ছাড়াই একতরফাভাবে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কমিশন, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। প্রধান বিচারপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা স্বীকার করে নিলেও, নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানান। আদালতের মতে, এই মুহূর্তে বদলি প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিলে রাজ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
ভোটের ময়দানে প্রশাসনিক প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কার্যত আরও সংহত হলো। যদিও মামলার আইনি দিকটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর শুনানি হবে, তবুও নির্বাচনের সন্নিকটে শীর্ষ আদালতের এই মনোভাব নবান্নের কাছে এক বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের কাজ পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই রদবদল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিশনের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুনিশ্চিত করল।
এক ঝলকে
- রাজ্যে ৩৭৫ জন আইএএস ও আইপিএস আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্ত বহাল রইল।
- সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি।
- নির্বাচনের ঠিক আগে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এড়াতেই আদালত বড় কোনো হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।
- বদলি সংক্রান্ত আইনি বৈধতার বিষয়টি ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখার জন্য মামলাটি বিচারাধীন রাখা হয়েছে।
