আইনের কাঠগড়ায় তৃণমূল যুবরাজ, শ্রীঘর যাত্রা এড়াতে আদালতই এখন শেষ ভরসা অভিষেকের – এবেলা

আইনের কাঠগড়ায় তৃণমূল যুবরাজ, শ্রীঘর যাত্রা এড়াতে আদালতই এখন শেষ ভরসা অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যত দলের সম্পূর্ণ রাশ চলে এসেছিল তাঁর হাতে। ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির মধ্যগগনে থাকার সময় বারবার তাঁর নিশানায় এসেছে আদালত ও বিচারব্যবস্থা। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতিদের নাম করে আক্রমণ করতেও পিছপা হননি তিনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতা ও নিরাপত্তা হারাতেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। যে বিচারব্যবস্থাকে একসময় নিশানা করেছিলেন, আজ গ্রেপ্তারির আশঙ্কা ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে সেই আদালতের দরজার বাইরেই রক্ষাকবচের আশায় কড়া নাড়তে হচ্ছে এই হেভিওয়েট নেতাকে।

অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি

বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলছে। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) কয়লা পাচার ও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় বেশ কয়েক বছর আগেই তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামলার তদন্ত করছে এবং এর আগে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ালেও তদন্ত এখনও জারি রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের বহুল চর্চিত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও নাম রয়েছে তাঁর। এই মামলায় আগামী ১৫ জুন তাঁর ইডি দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর কোনো আইনি রক্ষাকবচ নেই।

রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও অন্যান্য আইনি জটিলতা

দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি একাধিক ফৌজদারি ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগেও জর্জরিত তৃণমূল সেনাপতি। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা বাছাইকে কেন্দ্র করে একটি সই জাল জালিয়াতির মামলায় সিআইডি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর ভবানীভবনে হাজিরা দিলেও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে’—এমন মন্তব্য করার জেরে আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি, যার তদন্তভারও রয়েছে সিআইডির হাতে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য, ২০১৮ সালের একটি মারধরের ঘটনা এবং ত্রিপুরাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার শীর্ষে থাকাকালীন আইনের তোয়াক্কা না করা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিক আক্রমণই আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্ষমতাচ্যুতির পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সাঁড়াশি চাপ এবং একের পর এক মামলার জেরে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর সংকটে। আদালতের আইনি রক্ষাকবচ না পেলে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্যের সমসাময়িক রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব এবং নেতৃত্বের রাশ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *