আইপিএল ফাইনাল হেরে ফেরার পথে গুজরাত টাইটান্সের বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শুভমনরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ট্রফি হারানোর হতাশা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি গুজরাত টাইটান্স। সেই ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার ধাক্কার মাঝেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হলো শুভমন গিলদের। রবিবার রাতে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফেরার পথে আচমকাই গুজরাত টাইটান্সের দলীয় বাসে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় ক্রিকেটার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মীদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি এবং দলের সমস্ত ক্রিকেটার ও সদস্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।
বিপর্যয়ের কারণ ও আতঙ্কের মুহূর্ত
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রবিবার রাতে স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেটারদের নিয়ে বাসটি যখন হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, তখন চলন্ত বাসে হঠাৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। বাসের ভেতর ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়েই চালক দ্রুত গাড়িটি থামিয়ে দেন। এরপর অত্যন্ত তৎপরতার সাথে শুভমন গিলসহ দলের সমস্ত ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপদে বাস থেকে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। এই দুর্ঘটনার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তাতেই আটকে থাকতে হয় ক্রিকেটারদের। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিরাপদ আশ্রয়ে তথা হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ক্লান্তি ও মানসিক ধাক্কার নেপথ্যে
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠ ও মাঠের বাইরে গত কয়েকদিন ধরে চরম ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে গুজরাত টাইটান্সকে। গত ২৭ মে ধর্মশালা থেকে মুল্লানপুরে পৌঁছানোর পর ২৯ মে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল তাদের। এরপর ৩০ মে আমদাবাদে ফেরার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে দল নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি, শনিবার সন্ধ্যায় তারা পৌঁছায় নিজেদের ঘাঁটিতে। এই লাগাতার ভ্রমণক্লান্তি ও ব্যস্ত সূচির প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে ফাইনালের পারফরম্যান্সেও। আরসিবির বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৫৫/৮ রান তুলতে সক্ষম হয় গুজরাত। পরবর্তীতে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলে বেঙ্গালুরু।
একদিকে ফাইনালে কম রানে আটকে গিয়ে শিরোপাচ্যুত হওয়ার মানসিক ধাক্কা, অন্যদিকে হোটেল ফেরার পথে মাঝরাস্তায় বাসে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে রবিবার রাতটি গুজরাত ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য এক চরম দুঃস্বপ্নের রাত হয়ে রইল। তবে এত বড় যান্ত্রিক ত্রুটির পরও যে ক্রিকেটাররা নিরাপদে হোটেলে ফিরতে পেরেছেন, সেটাই এই মুহূর্তে ক্রিকেট মহলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
