আইফোনের লোভেই অকালমৃত্যু? মায়ের ফোন নিয়ে বেরিয়ে আর ফিরল না ১৩ বছরের কিশোর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 20, 20267:08 pm
আইফোনের শখই ডেকে আনল চরম বিপর্যয়! মায়ের মোবাইল হাতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না ১৩ বছরের কিশোরের। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো তার ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত মরদেহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায়।
নিহত কিশোরের নাম ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩)। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
ছবি তোলার আনন্দে যাত্রা, তারপরই নিখোঁজ
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ মায়ের আইফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় অপ্রতীম। কিন্তু বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়ালেও ছেলে ঘরে না ফেরায় পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গলে এক কিশোরের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করলে শনাক্ত হয়, এটি নিখোঁজ অপ্রতীমেরই নিথর দেহ।
মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্যই কি খুন?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত কিশোরের মাথায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দামী আইফোনটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই কোনো ভারী বস্তু বা ওড়না পেঁচিয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের ছায়া, গ্রেফতার ৩
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরে কোটবাড়ি এলাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যেই ৩ জনকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল ছক অনেকটাই উন্মোচন করা গেছে এবং খুব শিগগিরই সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
