আকাশের নতুন থাবা ড্রোন, যুদ্ধের ভোলবদল নিয়ে সতর্ক করলেন বিমানবাহিনী প্রধান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার রাতারাতি বদলে দিচ্ছে রণকৌশল। একসময় ড্রোন বা মানববিহীন বিমান ব্যবস্থা (ইউএএস) মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে তা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধের ‘আকাশের থাবা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি নতুন দিল্লিতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি জানান, সেনাবাহিনী এখন কেন্দ্রীভূত বিমান শক্তির চেয়ে বিকেন্দ্রীভূত এবং স্বায়ত্তশাসিত যুদ্ধ ব্যবস্থার দিকে বেশি ঝুঁকছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’ প্রমাণ করেছে যে, ড্রোন ইতিমধ্যেই যুদ্ধের চেনা রূপ বদলে দিয়েছে।
যুগ্ম অভিযান ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা, নৌ ও বিমান—এই তিন বাহিনীর মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিমানবাহিনী প্রধান। তিনি সতর্ক করেছেন যে, একই আকাশসীমায় বিভিন্ন বাহিনীর পৃথক অভিযানের সময় পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে আকাশসীমার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, আগামী দিনের যুদ্ধ হবে মানুষ চালিত যুদ্ধবিমান এবং মানববিহীন ড্রোনের যৌথ শক্তির মেলবন্ধন। তবে যুদ্ধপ্রক্রিয়া থেকে মানুষকে এখনই পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী (কাউন্টার-ইউএএস) প্রযুক্তির এই লড়াইকে তিনি ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা দুই প্রযুক্তিই সমান তালে বিকশিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে বিপুল সংখ্যায় ড্রোন ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিমানবাহিনী প্রধান জানান, শত্রুদেশের সস্তা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কোনো সমাধান নয়। তাই ভারতকে কম খরচে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শতভাগ নিখুঁত প্রযুক্তির অপেক্ষায় বসে না থেকে, সময়মতো ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোই এখন সময়ের দাবি।
