আজই কি ইস্তফা দিচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা পুরসভায় তুঙ্গে নাটকীয়তা – এবেলা

আজই কি ইস্তফা দিচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা পুরসভায় তুঙ্গে নাটকীয়তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এবার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে কলকাতা পুরসভাকে (কেএমসি) ঘিরে। রাজনৈতিক মহলের খবর, আজই কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন ফিরহাদ হাকিম। ঘনিষ্ঠ মহলে কলকাতা বন্দরের এই হেভিওয়েট বিধায়ক নিজের ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তবে ইস্তফাপত্র জমা পড়া বা তা গ্রহণ করা নিয়ে দিনভর দফায় দফায় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ফিরহাদ হাকিমের অনুরোধ নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ফিরহাদ হাকিম আগেই পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই অনুরোধ পুনর্বিবেচনার জন্য জানিয়েছিলেন। যদিও এর পরেই অবস্থান বদলে স্বয়ং ফিরহাদ হাকিম জানান, পদত্যাগের বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

পদত্যাগপত্র মেলেনি দাবি চেয়ারপার্সন ও পুর কমিশনারের

মেয়রের পদত্যাগের এই তীব্র জল্পনার মাঝেই কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিরহাদ হাকিমের কাছ থেকে এখনও কোনো পদত্যাগপত্র তাঁর দফতরে আসেনি। কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মেয়র তাঁর কাছে কোনো ইস্তফাপত্র পাঠাননি এবং পদত্যাগ করলে তা যথাসময়ে সকলেই জানতে পারবেন। একই সুরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মেয়রের ইস্তফাপত্র তাঁর দফতরে পৌঁছায়নি। ফলে তৃণমূলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে মেয়রের এই ‘পদত্যাগ-নাটক’ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জটিলতা কাটিয়ে ১৯ জুন পুরসভার পরবর্তী অধিবেশন

ইস্তফা জল্পনার সমান্তরালেই গত ২২ মে কলকাতা পুরসভার পূর্বনির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করা ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। চেয়ারপার্সন মালা রায় অভিযোগ করেছিলেন, অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁর দফতরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পর মালা রায় ঘোষণা করেন, আগামী ১৯ জুন দুপুর ২টোর সময় কলকাতা পুরসভার পরবর্তী অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

হাইকোর্টের শুনানির পর গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। বিরোধী কাউন্সিলরদের দাবি, শহরের একাধিক নাগরিক সমস্যা নিয়ে পুরসভায় আলোচনা এবং পুর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করার জন্য এই অধিবেশন অত্যন্ত জরুরি ছিল। একদিকে পুরসভার অচলবস্থা কাটাতে আদালতের হস্তক্ষেপে ১৯ জুনের মেগা অধিবেশন, অন্যদিকে পুরপ্রধান ফিরহাদ হাকিমের চেয়ার ছাড়ার গুঞ্জন—এই জোড়া ফলার টানাপোড়েনে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত কলকাতা পুর প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *