আধুনিক মানুষ জন্মানোর আগেই কাঠের কারুকার্য, আফ্রিকায় ৫ লক্ষ বছরের প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কার
আফ্রিকার জাম্বিয়ায় কালাম্বো জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার বছরের পুরনো একটি কাঠের কাঠামো আবিষ্কার করেছেন। লিভারপুল ও অ্যাবেরিস্টুইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই নিদর্শনটি আধুনিক মানুষ বা হোমো স্যাপিয়েন্সের পৃথিবীতে আসারও অন্তত ২ লক্ষ বছর আগের। পচনশীল হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ জলাবদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাঠগুলি দীর্ঘ সময় অবিকৃত অবস্থায় ছিল, যা প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
গবেষণায় দেখা গেছে, আদিম হোমিনিন প্রজাতির মানুষ বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে কাঠের গুঁড়ি কেটে সুনির্দিষ্ট নকশা ও কাঠামো তৈরি করেছিল। উদ্ধারকৃত নমুনার মধ্যে মাটি খোঁড়ার লাঠি এবং খাঁজযুক্ত কাঠের শাখা পাওয়া গিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সে সময়কার মানুষেরা কেবল পাথর নয়, কাঠের বহুমুখী ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। এর আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে আদিম মানুষদের উদ্ভাবনী শক্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত, কিন্তু এই আবিষ্কার সেই প্রচলিত ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
অধ্যাপক ল্যারি বারহ্যামের মতে, এই প্রাচীন কাঠামোর সজ্জা এবং কারুকার্য প্রাগৈতিহাসিক মানুষের উন্নত বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তারা কেবল টিকে থাকার জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে নতুন কিছু তৈরির কল্পনাশক্তিও রাখত। এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারের ফলে প্রাচীন ‘প্রস্তর যুগ’ শব্দটির সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিবর্তনের ইতিহাসে আদিম মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

