আপনারা দুজনেই উপার্জন করছেন ঠিকই, কিন্তু টাকা যাচ্ছে কোথায়? দম্পতিদের জন্য জরুরি কিছু কথা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আজকের দিনে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চাকরি করার অর্থাৎ ‘ডাবল ইনকাম’ (Double Income) সংস্কৃতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে হাতে আসছে প্রচুর টাকা। সপ্তাহান্তের মল ভ্রমণ, অনলাইন শপিং, বছরে একবার বিদেশ সফর কিংবা সন্তানদের দামী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা— বাইরে থেকে দেখলে আপনাদের জীবন হয়তো খুব ঝকঝকে মনে হতে পারে।
কিন্তু রাতে ঘুমানোর আগে একবার ভাবুন তো, আপনারা কি সত্যিই ধনী হচ্ছেন? নাকি আপনাদের জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচ আপনাদের দুজনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকা গিলে খাচ্ছে? “মাসের শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স এত কমে যাচ্ছে কেন?”— এই প্রশ্ন কি আপনাদের মনেও জাগে?
সেবি (SEBI)-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে ৩০-৪৫ বছর বয়সী দম্পতিদের মধ্যে মাত্র ৯.৫ শতাংশের সঠিক দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা (Financial Planning) রয়েছে। বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ কেবল উপার্জন, ইএমআই মেটানো আর খরচের চক্করে নিজেদের যৌবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা।
দম্পতিদের সামনে ৩টি প্রধান বাধা (The Hidden Traps):
১. লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন (Lifestyle Inflation): বিয়ের শুরুতে হয়তো ছোট ভাড়াবাড়ি আর একটা বাইকেই আপনারা সুখী ছিলেন। কিন্তু বেতন বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আকাঙ্ক্ষা। এখন একজনের বেতন ঘরখরচে চলে যায়, আর অন্যজনের বেতন শেষ হয় ইএমআই এবং বিলাসিতায়। “প্রতিবেশী নতুন গাড়ি কিনেছে, আমরা কেন কিনব না?”— এই প্রতিযোগিতার মানসিকতা আপনাদের সঞ্চয়ে বাধা দিচ্ছে।
২. ‘পরে দেখা যাবে’ সিন্ড্রোম (The “Later” Syndrome): “সন্তানরা তো এখনও ছোট, পড়াশোনার জন্য পরে ভাবা যাবে” অথবা “অবসরের তো এখনও ২০ বছর বাকি, এত তাড়া কিসের?”— এই অবহেলাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে বোঝেন না যে ৩০ বছর বয়সে মাসে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা আর ৪৫ বছর বয়সে মাসে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা প্রায় সমান। সময় যত গড়াচ্ছে, আপনারা আপনাদের অবসরের শান্তি ততটাই হারাচ্ছেন।
৩. যৌথ লক্ষ্যের অভাব (Lack of Common Goal): স্বামী ও স্ত্রীর আলাদা আলাদাভাবে হিসেব রাখা। স্বামী হয়তো স্টক মার্কেটে ঝুঁকি নিচ্ছেন, আর স্ত্রী ভয়ে শুধু সোনা কিনছেন। দুজনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে টাকা বিভিন্ন দিকে খরচ হয়ে যাচ্ছে।
সমাধান: ১৫ বছরেই অবসর সম্ভব!
আপনাদের দুজনের মোট বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ৩০-৪০%) যদি সঠিক পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা যায়, তবে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যেই আপনারা চাকরি ছেড়ে নিশ্চিন্তে অবসর নিতে পারেন। একেই বলা হয় FIRE (Financial Independence Retire Early)।
এর জন্য কী করবেন?
- ঋণমুক্ত জীবন: হোম লোন ২০ বছর ধরে না টেনে স্মার্ট প্রি-পেমেন্টের মাধ্যমে ১০ বছরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন।
- সন্তানের ভবিষ্যৎ: পড়াশোনার খরচ প্রতি বছর ১০% হারে বাড়লেও যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য ইক্যুইটি-নির্ভর বড় তহবিল (Corpus) তৈরি করুন।
- দ্বিতীয় আয়: আপনারা কাজ না করলেও যাতে আপনাদের বিনিয়োগ থেকেই প্রতি মাসে বেতনের মতো টাকা আসে, তার জন্য SWP (Systematic Withdrawal Plan) পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
আপনার জন্য এক আনন্দময় ভবিষ্যৎ!
কল্পনা করুন… আপনার বয়স ৫০। সন্তানদের পড়াশোনা চলছে। আপনার মাথায় কোনো ঋণের বোঝা নেই। আপনাকে আর বাধ্য হয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে না। নিজের পছন্দের কাজ করা বা পৃথিবী ঘুরে দেখার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার আছে। এই জীবন সম্ভব— তবে তার জন্য আজই একটি ছোট পরিবর্তন করতে হবে।
আপনার ৩০ এবং ৪০-এর কোঠার বয়সগুলোকে হেলায় হারাবেন না। এটাই সম্পদ তৈরির ‘স্বর্ণযুগ’ (Golden Era)। এই সময়টা হাতছাড়া করলে ৬০ বছর বয়সে শরীর সায় না দিলেও আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।

