আবার কি লকডাউন? জাহাজজুড়ে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে মুখ খুলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের নাম হান্টাভাইরাস। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক একটি জাহাজে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের কবলে পড়ে ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে আবারও লকডাউন বা মহামারির আশঙ্কা দানা বাঁধছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এটি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অতটা ভয়াবহ সংক্রামক নয়।
সংক্রমণের ধরন ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত একটি প্রাণীবাহিত বা ‘জুনোটিক’ রোগ, যা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। জাহাজের মতো একটি আবদ্ধ স্থানে দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকায় সংক্রমণের একটি ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ সালেও আর্জেন্টিনায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ানোর হার অত্যন্ত সীমিত এবং এটি কেবল নিবিড় সংস্পর্শের মাধ্যমেই সম্ভব।
মহামারির আশঙ্কা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো অতিমারি বা লকডাউনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির কর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ (কন্টাক্ট ট্রেসিং) এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করতে পারলে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। যদিও একক সংক্রমণের ক্ষেত্রে হান্টাভাইরাস কোভিডের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে এর গঠন ও ছড়িয়ে পড়ার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এটি বড় আকারের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- আর্জেন্টিনা থেকে আসা একটি জাহাজে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- এটি মূলত ইঁদুরবাহিত রোগ এবং মানুষ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমণের হার খুবই কম।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যথাযথ আইসোলেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
- লকডাউন বা নতুন কোনো বৈশ্বিক মহামারির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
