আমডাঙা ও দেগঙ্গায় তৃণমূলের প্রার্থী বদল কোন্দল ও জনরোষ সামলাতে মরিয়া নেতৃত্ব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা ও দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবং জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি সংকটের জেরে প্রার্থী বদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। দেগঙ্গায় বিদায়ী বিধায়ক রহিমা মণ্ডলের পরিবর্তে ভূমিপুত্র আনিসুর রহমান বিদেশকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আমডাঙায় রফিকুর রহমানের বদলে কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করায় মঙ্গলবার রাত থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দুই কেন্দ্রেই বিগত কয়েক বছরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় দলীয় সমীক্ষার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
দেগঙ্গায় রহিমা মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্লক স্তরের নেতা ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং ‘বহিরাগত’ তকমা থাকায় ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। নতুন প্রার্থী আনিসুর রহমান এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিদায়ী বিধায়কের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। গত লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকায় বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় তৃণমূল এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে আমডাঙার পরিস্থিতি তুলনামূলক জটিল, কারণ সেখানে বিদায়ী বিধায়কের অনুগামীরা নতুন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
আমডাঙায় কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কর্মীদের দাবি ছিল কোনো স্থানীয় নেতাকে প্রার্থী করা। কাসেম সিদ্দিকির পুরনো কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, স্থানীয় অনেক পদাধিকারী গণ-ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই সুযোগে আইএসএফ নেতৃত্ব ওই এলাকায় শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে, যা শাসক শিবিরের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

