আমরা তো ভোট দিয়েছিলাম, তবে কেন ঘর ভাঙলেন? প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ১১ বছরের বালিকার চিঠি ভাইরাল – এবেলা

আমরা তো ভোট দিয়েছিলাম, তবে কেন ঘর ভাঙলেন? প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ১১ বছরের বালিকার চিঠি ভাইরাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে চলা ‘বুলডোজার অভিযান’ হাজার হাজার দরিদ্র পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযানে ঘর হারানো ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী, রাধিকা মাহাতো, কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছে যা বর্তমানে পুরো দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যে নেতার ওপর ভরসা করে পরিবারটি ভোট দিয়েছিল, সেই নেতার নির্দেশেই নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে যাওয়ায় রাধিকার প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

বিপন্ন শৈশব ও অনিশ্চিত শিক্ষা জীবন

কাঠমান্ডুর থাপাতলি এলাকার বাসিন্দা রাধিকা গত তিন সপ্তাহ আগেও একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে সপরিবারে বসবাস করত। মেয়রের নির্দেশে বুলডোজার দিয়ে সেই বস্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর রাধিকার পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের কাঠমান্ডু থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে একটি অস্থায়ী শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে রাধিকা প্রশ্ন তুলেছে, “আমরা আপনাদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছি, অথচ আপনারা আমাদেরই ঘর ভেঙে দিলেন? এখন আমরা কোথায় থাকব, আর পড়াশোনাই বা করব কীভাবে?” গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার ভূমিহীন মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ৪ হাজারেরও বেশি ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুনর্বাসনহীন উচ্ছেদ ও ক্রমবর্ধমান গণবিক্ষোভ

শহর উন্নয়ন ও সরকারি জমি উদ্ধারের দোহাই দিয়ে নেপাল প্রশাসন এই অভিযান চালালেও, বিকল্প ব্যবস্থার অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিষয়টি নেপালের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে জানিয়েছে, যথাযথ পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা যাবে না। বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিচারকরা। এদিকে, বুলডোজার অভিযানের প্রতিবাদে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে কাঠমান্ডুর বাইরেও। পোখরাসহ বিভিন্ন শহরে ভূমিহীন মানুষ মেয়রের পদত্যাগ দাবি করে মশাল মিছিল বের করেছেন। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *