“আমরা ভারতের মতো নই!” লাইভ শো-তে নিজেদের কঙ্কালসার দশা ফাঁস করে চরম ট্রোলের মুখে পাক মন্ত্রী

ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের প্রকৃত চিত্র এবার বিশ্বমঞ্চে ফাঁস করে দিলেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভারতের মতো শক্তিশালী কৌশলগত জ্বালানি ভাণ্ডার পাকিস্তানের নেই। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অদূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইরানি সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
কৌশলগত মজুতের অভাব ও ভারতের সঙ্গে তুলনা
মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক সরাসরি জানান, ভারতের কাছে যেখানে ৬০-৭০ দিনের জরুরি জ্বালানি মজুত থাকে, সেখানে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ৫-৭ দিনের অপরিশোধিত তেল রয়েছে। ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নয়াদিল্লি একটি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে পারে, যা পাকিস্তানের পক্ষে আসাম্ভব। এই মজুত না থাকার অর্থ হলো, বিশ্ববাজারে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেই পাকিস্তানের জ্বালানি ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
অর্থনৈতিক সংকট ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
পাকিস্তানের এই সংকটের পেছনে আইএমএফ-এর কঠিন শর্ত ও দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দায়ী করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর অতিরিক্ত লেভি বসাতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সম্প্রতি গণরোষের মুখে পড়ে শাহবাজ শরিফ সরকার লিটার প্রতি ৮০ পাকিস্তানি রুপি কমানোর ঘোষণা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সরবরাহ বন্ধ হলে বা দাম আরও বাড়লে দেশটিতে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ও শিল্প উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
No Petroleum Reserves for Even a Single Day, says Pakistan’s Federal Minister for Petroleum, Ali Pervaiz Malik,
— TRISHUL (@TrishulxIN) April 28, 2026
Adding that the country is not like India with 60–70 days of reserves that can be released with a single signature, and warning that people still do not fully realize… pic.twitter.com/1jh9k6HzUe
এক ঝলকে
- পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে তাদের কাছে মাত্র ৫-৭ দিনের জ্বালানি মজুত আছে।
- ভারতের ৬০-৭০ দিনের কৌশলগত তেল ভাণ্ডারের সক্ষমতাকে পাকিস্তানের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- আইএমএফ-এর শর্ত ও বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।
- জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৪০০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে।
