‘আমার জন্যই মুর্শিদাবাদে ফুটল ৮টি পদ্ম!’ তৃণমূলের পতনের নেপথ্যে বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবীরের

‘আমার জন্যই মুর্শিদাবাদে ফুটল ৮টি পদ্ম!’ তৃণমূলের পতনের নেপথ্যে বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবীরের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে সবচেয়ে বড় চমক দেখাল মুর্শিদাবাদ জেলা। দীর্ঘদিনের ‘তৃণমূলের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় শাসকদলের একাধিপত্যে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে গেরুয়া শিবিরের এই অভাবনীয় উত্থানের নেপথ্যে নিজের ‘কারিশমা’ ও রাজনৈতিক কৌশলকে দায়ী করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে শিক্ষা দিতেই তিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যার ফলে বিজেপি জেলায় ৮টি আসন দখল করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণের ভোলবদল ও হুমায়ুনের দাবি

২০২১ সালের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯-এ। অন্যদিকে, গতবার মাত্র ২টিতে জেতা বিজেপি এবার ৮টি আসনে জয়ী হয়ে জেলায় প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এই পটপরিবর্তনের কৃতিত্ব দাবি করে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করার পাল্টা জবাব দিতেই তিনি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামিয়েছেন। নিজের সদ্যোজাত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ থেকে রেজিনগর ও নওদা—উভয় আসনেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দিয়েছেন। রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ৫৯ হাজার এবং তৃণমূল প্রার্থীকে ৮১ হাজার ভোটে হারিয়েছেন তিনি।

পাল্টা আক্রমণে বিজেপি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

হুমায়ুন কবীর বিজেপির জয়ের কৃতিত্ব নিলেও, তা মানতে নারাজ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডলের মতে, হুমায়ুন কবীরের মতো আদর্শগতভাবে ভিন্ন মেরুর নেতার সমর্থন নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই বাগযুদ্ধের আবহেই হুমায়ুন কবীর তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন। তিনি রেজিনগর আসন থেকে ইস্তফা দিয়ে সেখানে নিজের ছেলে রবিনকে উপনির্বাচনে দাঁড় করানোর এবং নিজে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের এই ‘ব্যক্তিগত ক্যারিশমা’ এবং তৃণমূলের ওপর তাঁর ক্ষোভ মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে। যার সরাসরি সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। জেলায় তৃণমূলের এই বিপর্যয় আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *