আমি কালো জাদু করিনি বাবা! শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে চরম পরিণতি তরুণীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির নাংলোই এলাকায় শ্বশুরবাড়ির লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২৪ বছর বয়সি এক গৃহবধূ। মৃত্যুর আগে ফোনে রেকর্ড করা তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সমাজে নারী সুরক্ষার অভাব এবং গার্হস্থ্য হিংসার ভয়াবহ রূপটিকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।
শ্বশুরবাড়ির নির্মম অত্যাচার ও মিথ্যে অপবাদ
বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ওই তরুণীর জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা কালো জাদু করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। শাশুড়ি বা পরিবারের অন্য কাউকে মারধর করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। উলটে দিনের পর দিন তাঁকে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, বিপদের দিনে তিনি তাঁর স্বামীর কোনও সমর্থন পাননি, বরং স্বামী তাঁকেই দোষারোপ করতেন। একটি ছোট ও সুখী পরিবারের স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করলেও শ্বশুরবাড়ির অসহযোগিতা এবং স্বামীর উদাসীনতা তাঁকে এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে তরুণী তাঁর দেড় বছর বয়সি শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্বামীর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ওই তরুণী তাঁর বাবার কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তিনি যেন নাতনিকে নিজের কাছে রেখে মেয়ের মতো করে মানুষ করেন। এই মর্মান্তিক পরিণতি গার্হস্থ্য হিংসার শিকার নারীদের অসহায়তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ, যা সমাজে মহিলাদের প্রতি পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক দিকটিকে স্পষ্ট করে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তরুণীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
