আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে তেহরানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মিলবে কি স্থায়ী সমাধান! – এবেলা

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে তেহরানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মিলবে কি স্থায়ী সমাধান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির সফরের পরপরই এবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তেহরান বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মধ্যস্থতা করতেই এই বিশেষ সফর।

তবে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্ণায়ক অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চলমান সংকটের কারণ ও শর্তের টানাপোড়েন

এই কূটনৈতিক সংকটের মূল কারণ দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান ও শর্তের সংঘাত। পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ালেও ইরানের দেওয়া স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। ইরান সরকার তাদের পরমাণু কর্মসূচি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত রাখতে প্রস্তুত থাকলেও, তাদের শর্ত ছিল উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার বদলে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হবে—যা হোয়াইট হাউস কোনোভাবেই মানতে রাজি নয়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও পেন্টাগন তা নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

পাকিস্তানের এই শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক সফরগুলোর ওপর এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর। ট্রাম্প এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রয়াসের প্রশংসা করলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অবরুদ্ধ। আসিম মুনিরের এই সফরের ওপর নির্ভর করছে ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য শান্তিপ্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না। যদি এই মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তান যদি সফলভাবে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের অবস্থান ও প্রভাব অনেকটাই মজবুত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *