আমেরিকা এখন সম্মান বাঁচানোর পথ খুঁজছে, শান্তি আলোচনার আগে মেজাজ দেখালো ইরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোচনার টেবিলের বাইরে দুই দেশের স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন বর্তমানে যুদ্ধের ‘জটিল আবর্ত’ থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে। অন্যদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এরই মধ্যে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন আপত্তির কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সরাসরি আলোচনার অনিশ্চয়তা
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবে, যদিও তেহরান সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রভাব শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, কোনো সমঝোতা হলে তারা হরমুজ প্রণালীতে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের প্রযুক্তিগত অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত। মানবিক দায়িত্ব ও বৈশ্বিক জ্বালানি পথ সচল রাখার স্বার্থে তুরস্ক এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ ও জনজীবনের ভোগান্তি
এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ বর্তমানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা কঠোর বিধিনিষেধের ফলে শহরটিতে কার্যত লকডাউনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিমানবন্দরগামী গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে কড়া নজরদারির কারণে রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রেড জোনের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলো।
এক ঝলকে
- ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান।
- তেহরান সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করলেও তুরস্ক সমুদ্রপথের মাইন সরাতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
- ওয়াশিংটন সম্মানজনকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট থেকে বের হতে চাইছে বলে দাবি করেছে ইরান।
- কড়া নিরাপত্তার কারণে ইসলামাবাদের সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং যাতায়াতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
