লেটেস্ট নিউজ

‘আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করতে পারে, কিন্তু…’, ট্রাম্পের হুমকিতে ফুঁসছে ইরান, খামেনেই ঘনিষ্ঠের খোলা চ্যালেঞ্জ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার কোনো শর্ত মেনে নেবে না।

গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন যদি সততার সাথে আলোচনা করতে চায় তবেই ইরান বৈঠকে বসবে; তবে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। তেহরানে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল নিজের মর্জি চাপিয়ে দিতে চাইছেন।”

ট্রাম্পের লাগাতার হামলার হুমকি

আমেরিকা মধ্য-প্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার পর এবং ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে চলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গালিবাফ দেশে ঘটে যাওয়া সহিংস বিক্ষোভের বিষয়ে মুখ খুলে বলেন, অশান্তিতে নিহত প্রায় ৩০০ নিরাপত্তা কর্মীর রক্তের বদলা নেওয়া হবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তিনি আংশিকভাবে সরকারি অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেও, এর প্রধান কারণ হিসেবে আমেরিকার “কঠোর নিষেধাজ্ঞা”কেই চিহ্নিত করেছেন। গালিবাফ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানে হামলা হলে মার্কিন সেনারা সরাসরি নিশানায় থাকবে। তিনি বলেন, “হয়তো মিস্টার ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করতে পারেন, কিন্তু সেই যুদ্ধের সমাপ্তি তিনি নির্ধারণ করতে পারবেন না।”

মার্কিন হামলার কড়া জবাব দেবে ইরান

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যথায় পরবর্তী মার্কিন হামলা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী হবে বলে হুমকি দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি “ন্যায়সঙ্গত চুক্তি” করতে হবে এবং সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সুপ্রিম লিডারের উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরান আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু বানাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সতর্ক করেছেন যে, ইরানি বাহিনী “ট্রিগারে আঙুল রেখে” যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে প্রস্তুত। ২০২৫ সালের জুনের হামলার পর থেকে আমেরিকা মধ্য-প্রাচ্যে তাদের বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *