আমেরিকাকে বুড়ো আঙুল! ভারতকে সস্তায় তেল দিতে বড় ঘোষণা রাশিয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবল চাপ ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই ভারতের বাজারে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তাঁর ভারত সফরের প্রাক্কালে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণ যাই হোক না কেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সবসময় পাশে থাকবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পশ্চিমা বাধার মোকাবিলা
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিতে মাঝেমধ্যে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তার জন্য সরাসরি আমেরিকাকে দায়ী করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের নেওয়া কিছু নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া বদ্ধপরিকর। লাভরভ আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে মস্কো সস্তায় তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখবে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই ঘোষণা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দৃঢ় কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বন্ধন
জ্বালানি খাতের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতেও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে ক্রেমলিন। ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের প্রশংসা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পর যখন পশ্চিমা বিশ্ব ভারতকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিল, তখন রাশিয়াই আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু দেশ দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে ফাটল ধরার চেষ্টা করলেও, রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বিশ্বাস এতটাই গভীর যে কোনো বাহ্যিক শক্তি তা টলাতে পারবে না।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই অনড় অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কম মূল্যে তেল কেনা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় করতে সাহায্য করছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে লাভরভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবেই দেখছে মস্কো। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
